প্রকাশ: শুক্রবার, ২৭ জুন, ২০২৫, ১০:২৬ AM

ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির পর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদারে নজর দিয়েছে ইরান। দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী কুর্দিস্তানসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক গণগ্রেপ্তার, সামরিক উপস্থিতি ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মাধ্যমে সম্ভাব্য অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা মোকাবিলায় সক্রিয় হয়েছে।
কর্মকর্তা ও অধিকার আন্দোলনকারীদের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ১৩ জুন ইসরায়েলি বিমান হামলার কয়েকদিনের মধ্যেই ইরানে নিরাপত্তা বাহিনী রাস্তায় চেকপয়েন্ট বাড়িয়ে গ্রেপ্তার অভিযান শুরু করে। ইতোমধ্যে ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে দেশটি।
মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএনএ জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত ৭০৫ জনকে রাজনৈতিক বা নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট অভিযোগে আটক করা হয়েছে। অধিকাংশ ঘটনাই ঘটেছে উত্তরের অশান্ত কুর্দি অঞ্চলে, যেখানে বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা ও সরকারবিরোধী মতাদর্শের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।
ইরানি কুর্দি অধিকার সংগঠন ‘হেঙ্গাও’ জানিয়েছে, সম্প্রতি যাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে তারা সবাই কুর্দি। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে মোসাদের সঙ্গে যোগসাজশ ও অস্ত্র চোরাচালানের অভিযোগ আনা হয়েছিল।
ইসরায়েলি হামলায় ইরানের প্রায় ২০ জন শীর্ষ বিজ্ঞানী ও সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন। হামলার লক্ষ্য ছিল পারমাণবিক স্থাপনা। পশ্চিমা বিশ্লেষকদের একাংশ এবং নির্বাসিত সরকারবিরোধী গোষ্ঠীগুলো মনে করেছিল, এই হামলা দেশজুড়ে একটি গণআন্দোলনের সূত্রপাত ঘটাবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি।
তেহরানে কারারুদ্ধ এক অধিকারকর্মী বলেন, ‘সরকার এ ধরনের পরিস্থিতিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করতে পারে- এই আশঙ্কা থেকেই আমরা এখন খুবই সতর্ক।’
ইরানি নিরাপত্তা সংস্থাগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মোসাদ, কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী এবং ‘পিপলস মুজাহিদীন অর্গানাইজেশন’- এর তৎপরতা নিয়ে। এই সংগঠনটি অতীতে ইরানে একাধিক হামলা চালিয়েছিল এবং ইসরায়েলের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে বলে দাবি করছে কর্তৃপক্ষ।
রয়টার্স এই বিষয়ে ইরানের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্তব্য জানতে চাইলেও এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সূত্র: রয়টার্স
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম