প্রকাশ: সোমবার, ২৩ জুন, ২০২৫, ৬:৩১ পিএম

শত্রুতার জেরে এক কৃষাণীর ১ একর জমির সবজি গাছ উপড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে
বরগুনার তালতলীতে পূর্ব শত্রুতার জেরে এক কৃষাণীর ১ একর জমির সবজি গাছ উপড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে মো. আবুল বাশার নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
আজ সোমবার (২৩ জুন) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী কৃষাণী লাইজু বেগম। এর আগে রবিবার (২২ জুন) দিবাগত রাতে উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের সওদাগর পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত আবুল বাশার সওদাগর পাড়া এলাকার মৃত হজরত আলির ছেলে। কৃষানি মোসা. লাইজু বেগম সওদাগর পাড়া এলাকার মো. জাফর ফরাজীর স্ত্রী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কৃষানি মোসা. লাইজু বেগম ১ একর জমি লিজ নিয়ে করলা ও হাইব্রিড জাতের মরিচ চারা রোপণ করেন। তার খেতে ফলনও ভাল হয়েছে। পরে গতকাল রবিবার দিবাগত রাতে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষ আবুল বাশার কৃষাণীর ১ একর জমির সবজি গাছগুলো উপড়ে ফেলেছে। এতে তার আর্থিকভাবে ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপড়ে ফেলা গাছগুলো রোদে শুকিয়ে যাচ্ছে। ছোট ছোট করলা ও মরিচগুলোও শুকিয়ে গেছে। সবজি ক্ষেতে কান্নাকাটি করছিলেন কৃষাণী লাইজু বেগম। এ সময় স্থানীয় কৃষকেরা দাবি করেন, গ্রামের কোনো একটি বিষয়ের ঝগড়া নিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে একজন গরিব কৃষাণীর স্বপ্ন ও পরিশ্রমকে ধ্বংস করা হয়েছে। আমরা এর সঠিক বিচার চাই।
ভুক্তভোগী কৃষাণী মোসা. লাইজু বেগম বলেন, “আমি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে সবজি ক্ষেত করেছি। কিন্তু পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আবুল বাসার আমার জমির সব সবজি গাছ উপড়ে ফেলেছে। দিনরাত পরিশ্রমের পর খেতে ফলনও আসতে শুরু করেছে। ফলনও ভালো হয়েছে। আগামী সপ্তাহে মধ্যে সবজি বিক্রি করতে পারতাম। কিন্তু আজ সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি সবজি গাছগুলো মাটি থেকে উপড়ে ফেলা হয়েছে। আমি এখন কীভাবে এনজিও ঋণ পরিশোধ করব? আমি এ ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’’
অভিযুক্ত আবুল বাশার বলেন, ‘‘তারা বিষ দিয়ে আমার মুরগি মেরে ফেলছিলো। সেটা থানা পুলিশের মাধ্যমে সমাধান হয়েছে। সবজি গাছ উপড়ে ফেলার বিষয়ে আমি জড়িত না।’’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে সালমা বলেন, ‘‘এ বিষয়ে তালতলী থানা পুলিশকে আইনগত সহায়তা দেওয়ার জন্য লিখিতভাবে বলা হয়েছে।’’