প্রকাশ: রবিবার, ২২ জুন, ২০২৫, ৮:০৭ পিএম

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় বাবার মোটরসাইকেলে কলেজে যাওয়ার পথে বোরকা পেছনের চাকায় পেঁচিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন এক কলেজছাত্রী। নিহত শিক্ষার্থীর নাম ইশরাত জাহান শান্তা (১৭)। তিনি হাতিয়া ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির মানবিক বিভাগের ছাত্রী এবং জাহাজমারা ইউনিয়নের নতুন সুখচর গ্রামের পল্লী চিকিৎসক মো. আরিফের মেয়ে।
দুর্ঘটনাটি ঘটে রোববার (২২ জুন) দুপুরে, উপজেলার সোনাদিয়া এলাকার হিল্টন রোডে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবারসূত্রে জানা যায়, সকালে শান্তা বাবার মোটরসাইকেলে করে নিজ বাড়ি থেকে কলেজের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথিমধ্যে হিল্টন রোডে পৌঁছালে চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছনের চাকায় তার পরনের বোরকার নিচের অংশ পেঁচিয়ে যায়। একই সঙ্গে গলায় ঝুলে থাকা অংশটিও টান পড়ে। এতে হঠাৎ করে গাড়ি থেকে ছিটকে পড়ে যান তিনি এবং বোরকার আঁচলে ফাঁস লেগে প্রায় ২০-২৫ গজ দূর পর্যন্ত রাস্তায় টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
পথচারীরা শান্তা ও তার বাবাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের উপ-সহকারী মেডিকেল কর্মকর্তা মো. শামীম বলেন, “শান্তার মাথায় গুরুতর আঘাত ছিল এবং গলায় ফাঁস লাগার চিহ্ন ছিল। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।”
তবে তার চাচা মো. আশরাফ জানান, “নদী পার হওয়ার আগেই শান্তার মৃত্যু হয়।” পরে পরিবারের সদস্যরা তার মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসেন।
শান্তার মৃত্যুতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন তার বাবা মো. আরিফ। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তিনি এখনো কারো সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলছেন না, আচরণে মানসিক ভারসাম্যহীনতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।
হাতিয়া থানার ওসি একেএম আজমল হুদা বলেন, “খবর পেয়েছি। তবে এখনো পরিবার থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শান্তার সহপাঠী ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সামাজিক মাধ্যমে শোক প্রকাশ করছে। একইসঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত এমন দুর্ঘটনা এড়াতে সচেতনতামূলক উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানাচ্ছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেএইচ