প্রকাশ: শনিবার, ২১ জুন, ২০২৫, ১২:৫৫ পিএম আপডেট: ২১.০৬.২০২৫ ১:০৫ PM

টাঙ্গাইলে করোনাভাইরাস পরীক্ষার কিটের অভাবে চিকিৎসা সেবা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন রোগীরা। আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা অজানা থাকায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে জেলার প্রায় ৪২ লাখ মানুষের মধ্যে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, রোগী শনাক্ত করা না গেলে সংক্রমণ ফের মহামারি রূপ নিতে পারে।
মে মাস থেকে দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব বাড়তে শুরু করলেও জেলার হাসপাতালগুলোতে জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে আসা রোগীরা কিট না থাকায় পরীক্ষা করাতে পারছেন না। ফলে চিকিৎসাও পাচ্ছেন না অনেকে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের আগস্ট পর্যন্ত টাঙ্গাইলে ১৬ হাজারের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হন এবং অন্তত ২৫০ জনের মৃত্যু হয়। ওই সময় ১০ বেডের আইসিইউ ইউনিট চালু করা হলেও জনবল সংকটে তা প্রায় তিন বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। অযত্নে পড়ে থাকা সরঞ্জাম ও বেড ধুলাবালিতে নষ্ট হচ্ছে। আইসিইউ চালু করার পরিকল্পনা থাকলেও যে ট্রমা সেন্টারে এটি স্থাপন করার কথা, সেটিও অগোছালো অবস্থায় রয়েছে।
টাঙ্গাইল শহরের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, “চিকিৎসা ব্যবস্থা চালু না হওয়ায় শঙ্কা তৈরি হচ্ছে। কিট না থাকায় অনেকেই পরীক্ষা করাতে পারছেন না। করোনা কিট, আইসিইউ চালু ও বিনামূল্যে অক্সিজেন সরবরাহ খুবই জরুরি।”
শিক্ষার্থী আলিফ আহসান বলেন, “ঢাকার এত কাছে থাকা জেলায় যদি করোনা কিট না থাকে, তাহলে অন্য জেলার পরিস্থিতি কেমন হতে পারে? রোগী শনাক্ত না হলে দ্রুত করোনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।”
আরেক বাসিন্দা রহিমা রহমান বলেন, “এখনই সময় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার। শনাক্ত করতে না পারলে মানুষকে সচেতন করাও কঠিন হবে। প্রশাসনের মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করা উচিত।”
পরিবেশকর্মী মুঈদ হাসান তড়িৎ বলেন, “৪২ লাখ মানুষের জেলার জন্য কিট ও চিকিৎসা সেবা না থাকা দুঃখজনক। পাশাপাশি জনসচেতনতা তৈরিতে দ্রুত পদক্ষেপ জরুরি।”
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক খন্দকার সাদিকুর রহমান বলেন, “কিট না থাকায় রোগী শনাক্ত করা যাচ্ছে না। চিকিৎসা সরঞ্জাম সার্ভিসিং করার চেষ্টা চলছে।”
সিভিল সার্জন ডা. এফএম মাহবুবুল আলম জানান, “করোনা প্রতিরোধে একাধিক সভা করে নির্দেশনা বাস্তবায়ন চলছে। ১৯ হাজার ৫৫০টি কিটের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে ৫টি করে করোনা বেড প্রস্তুত রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। আইসিইউ চালুর ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।”
স্বদেশ প্রতিদিন/কেএইচ