
গত সাত দিনে টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পানিতে ডুবে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচজনই শিশু। বাকি দুজনের একজন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং অন্যজন পেশায় মোটরসাইকেল মেকানিক।
জানা গেছে, ১০ জুন (মঙ্গলবার) থেকে ১৬ জুন (সোমবার) পর্যন্ত এসব মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ১১ জুন, যেখানে একদিনেই চারজন প্রাণ হারান।
বাসাইল ও গোপালপুরে তরুণের মৃত্যু
১১ জুন বুধবার বিকেলে বাসাইলের বাসুলিয়ায় বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে এসে পানিতে ডুবে মারা যান মোটরসাইকেল মেকানিক জাহিদুল ইসলাম (১৭)। মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার ভৌয়া গ্রামের জবু মিয়ার ছেলে জাহিদুল বন্ধুদের সঙ্গে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় হিজল গাছের পাশে গিয়ে গোসল করছিলেন। গোসল শেষে ফেরার সময় তিনি আবারও পানিতে লাফিয়ে পড়ে নিখোঁজ হন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে মৃত ঘোষণা করা হয়।
একই দিনে গোপালপুর উপজেলার হাট বৈরান কুমারপাড়া এলাকায় মামার বাড়িতে ঈদের দাওয়াতে গিয়ে নদীতে গোসল করতে নেমে মারা যান ঢাকার রামপুরার আব্দুল লতিফের ছেলে নিহাল (২৩)। তিনি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। নিহাল ও তার মামাতো ভাই জিসান নদীতে সাঁতার কাটতে গিয়ে নিখোঁজ হন। স্থানীয়রা জিসানকে জীবিত উদ্ধার করলেও নিহালকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে দমকল বাহিনী।
ঘাটাইলে একসঙ্গে দুই শিশুর মৃত্যু
একই দিন রাতে ঘাটাইল উপজেলার সংগ্রামপুর ইউনিয়নের বগা গ্রামে বাড়ির পাশের পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন সৌদি প্রবাসী জমির উদ্দিনের ছেলে শাওন (১২) এবং হাবিল উদ্দিনের ছেলে নাঈম (১০)। বিকেল থেকে নিখোঁজ থাকার পর রাত ১০টার দিকে পুকুরে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মির্জাপুরে নাচতে গিয়ে পানিতে পড়ে নিখোঁজ
১৪ জুন (শনিবার) সকালে মির্জাপুর উপজেলার বংশাই নদীর হাটুভাঙ্গা অংশে পিকনিক নৌকায় নাচতে গিয়ে পানিতে পড়ে মারা যান সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাদিম সিকদার (১৫)। তিনি আজগানা ইউনিয়নের চিতেশ্বরী মজিদপুর গ্রামের মো. ইকবাল সিকদারের ছেলে এবং বংশাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।
ধনবাড়ীতে চাচাতো দুই ভাইয়ের মৃত্যু
একই দিনে ধনবাড়ী উপজেলার যদুনাথপুর ইউনিয়নের মোমিনপুর গ্রামে পুকুরে ডুবে মারা যায় দুই শিশু—রফিকুল ইসলামের ছেলে শোয়েব (৩) ও আমিনুল ইসলামের ছেলে আরাফাত (৪)। তারা চাচাতো ভাই। খেলতে গিয়ে তারা পরিবারের অজান্তে পুকুরে পড়ে যায়।
সিভিল সার্জনের সতর্কবার্তা
জেলায় একের পর এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু। তিনি বলেন, “পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর অন্যতম কারণ অভিভাবকদের অসচেতনতা। বর্ষাকালে পুকুর বা ডোবার চারপাশে নিরাপত্তা নেট দেওয়া ও ডোবা ভরাট করাসহ বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, “শিশুদের ছোটবেলা থেকেই সাঁতার শেখানো উচিত। নদীপারের শিশুরা সাধারণত কম মারা যায়, কারণ তারা সাঁতার জানে।”
পানিতে ডুবে মৃত্যুর কোনো নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান স্বাস্থ্য বিভাগের হাতে নেই বলে জানান সিভিল সার্জন। তবে তিনি পরামর্শ দেন, জেলার পুলিশ সুপার (এসপি)-এর দপ্তর থেকে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করা যেতে পারে।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেএইচ