প্রকাশ: রবিবার, ১৫ জুন, ২০২৫, ১১:০৯ AM

সংগৃহীত ছবি
আজ ১৫ জুন, বিশ্ব বাবা দিবস। প্রতিবছর জুন মাসের তৃতীয় রোববার সারা বিশ্বে এই দিনটি উদ্যাপন করা হয় বাবাদের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উদ্দেশ্যে। মায়েদের পাশাপাশি বাবারাও যে সন্তানের জীবনে অনন্য অবদান রাখেন—সেই সত্যকে সম্মান জানাতে এ দিবস পালনের প্রচলন শুরু হয়েছিল বিংশ শতাব্দীর শুরুতে।
বাবা দিবস পালনের পেছনে রয়েছে এক হৃদয়বিদারক ইতিহাস। ১৯০৭ সালের ডিসেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম ভার্জিনিয়ার মোনোনগাহ শহরে এক ভয়াবহ কয়লাখনি বিস্ফোরণে প্রাণ হারান ৩৬২ জন পুরুষ, যাদের বেশির ভাগই ছিলেন সন্তানের বাবা। এর ফলে প্রায় এক হাজার শিশু পিতৃহারা হয়ে পড়ে। পরের বছর, ১৯০৮ সালের ৫ জুলাই, পশ্চিম ভার্জিনিয়ার ফেয়ারমন্ট শহরের একটি গির্জায় নিহতদের স্মরণে এক প্রার্থনাসভার আয়োজন করা হয়। সন্তানদের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভা ইতিহাসের প্রথম 'বাবা স্মরণ অনুষ্ঠান' হিসেবে বিবেচিত হয়।
বাবা দিবসকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন সনোরা স্মার্ট ডড নামের এক নারী। বাবার প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান জানাতে ১৯১০ সালের ১৯ জুন তিনি প্রথমবারের মতো ‘ফাদার্স ডে’ পালনের উদ্যোগ নেন। এরপর ধীরে ধীরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যে এ দিবস পালনের প্রবণতা ছড়িয়ে পড়ে।
১৯৬৬ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি. জনসন জুন মাসের তৃতীয় রোববারকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাবা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন। পরে ১৯৭২ সালে প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের সময় এটি জাতীয় দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পায়। তারও আগে, ১৯২৪ সালে প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কুলি দিবসটির প্রতি সম্মতি প্রকাশ করেছিলেন।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বাবা দিবস উদ্যাপন করা হয় নানা আয়োজনে। সন্তানের জীবনে বাবার অবদান স্মরণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে আবেগঘন বার্তা, ছবি ও ভিডিও। কেউ কেউ বাবার জন্য উপহার কেনেন, আবার কেউ শুধু সময় কাটিয়ে প্রকাশ করেন ভালোবাসা। দিনটি উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আয়োজন করে বিশেষ অনুষ্ঠান।
আজকের এই দিনে সন্তানদের পক্ষ থেকে পৃথিবীর সব বাবাকে জানানো হোক গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা—এই হোক বিশ্ব বাবা দিবসের মূল বার্তা।