প্রকাশ: শুক্রবার, ১৩ জুন, ২০২৫, ৮:৩০ পিএম

নানা জল্পনা-কল্পনা ও নাটকীয় ঘটনার পর অবশেষে মায়ের কোলেই ফিরে গিয়ে শান্তি খুঁজেছেন নাট্যকার ও অভিনেতা সমু চৌধুরী। ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরে ময়মনসিংহের শাহ মিসকিন মাজারে অবস্থান নিয়ে এক অদ্ভুত পরিস্থিতিতে পড়ে যান এই অভিনেতা। এরপর সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয় তার গামছা পরা ছবি ও ভিডিও, যা ঘিরে সৃষ্টি হয় নানা গুঞ্জন ও উদ্বেগ।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ফেসবুকজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে কয়েকটি ছবি, যেখানে দেখা যায়—ময়মনসিংহের একটি মাজারে খালি গায়ে গামছা পরে গাছতলায় শুয়ে আছেন সমু। এ ছবি দেখে অনেকেই ভেবে বসেন, হয়তো তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। কেউ কেউ ধারণা করেন, শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন তিনি। দ্রুত বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে জানা যায়, মাজারে গিয়ে জামাকাপড় ধুয়ে সেগুলো শুকাতে দিয়েছিলেন সমু। ওই সময় তিনি গামছা পরে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। সেখান থেকেই ভুল বোঝাবুঝি ও ভাইরাল কাণ্ডের সূত্রপাত।
রাতে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাকে হাস্যোজ্জ্বলভাবে কথোপকথনে দেখা যায়। তবে সাংবাদিকদের সঙ্গে কিছুটা বাগবিতণ্ডাও হয়। পরে রাত তিনটার দিকে সমুর চাচাতো ভাই রাইসুল ইসলাম ও অভিনয়শিল্পী সংঘের সদস্য সুজাত শিমুল ও জুলফিকার চঞ্চলের উপস্থিতিতে সমুকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয় এবং তিনি ফিরে আসেন ঢাকায়।
ঢাকায় ফিরে পরদিনই আবেগঘন এক সিদ্ধান্ত নেন এই অভিনেতা—ফিরে যান যশোরে, মায়ের কাছে। শুক্রবার সকালেই রওনা হয়ে পৌঁছান যশোরের নতুন বাজারের আরএন রোডের পারিবারিক বাসায়।
সমুর চাচাতো ভাই রাইসুল গণমাধ্যমকে জানান, ‘সারা রাত জার্নি করার কারণে ভাইয়া এখন বিশ্রামে আছেন। তবে তিনি মায়ের কাছে থাকায় মানসিকভাবে অনেকটাই প্রশান্ত।’
তিনি আরও বলেন, ‘সমু চৌধুরী মাজারভক্ত মানুষ। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি সাদামাটা জীবনযাপনেই অভ্যস্ত। কাজ না থাকলে প্রায়ই মাজারে সময় কাটান।’ ঈদটাও সমু কাটিয়েছেন যশোরে, মায়ের সঙ্গে। ঈদের পরদিনই গেছেন ময়মনসিংহে।
সমুর এই পুরো ঘটনার পেছনে ছিল আত্মিক প্রশান্তির খোঁজ। শেষ পর্যন্ত সেই প্রশান্তিই যেন তিনি খুঁজে পেয়েছেন মায়ের কোলে।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেএইচ