প্রকাশ: সোমবার, ৯ জুন, ২০২৫, ১২:২০ পিএম আপডেট: ০৯.০৬.২০২৫ ১২:২৫ PM

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঢুকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের (বৈছাআ) সংগঠকসহ অন্তত ১০ জনকে পিটিয়ে আহতের অভিযোগ উঠেছে।
আহতরা হলেন— রামগঞ্জের বৈছাআ সংগঠক রেদোয়ান সালেহীন নাঈম, আজিজ শাকিল, সাঈদ আলম শাহীন, জাহীদ হাসান পাবেল, তারেক আজিজ, সায়মন স্যাম, তারেক ও সংবাদকর্মী রায়হানুর রহমানসহ ১০ জন।
খবর পেয়ে রাতেই তাদেরকে হাসপাতাল দেখতে যান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম-আহবায়ক মাহবুব আলম।
রবিবার (৮ জুন) রাত ৯ টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। পরে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৩ জনকে আটক করেছে। আটকরা হলেন— মো. মাসুদ, কামাল হোসেন ও তুষার৷ তাদের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, রবিবার বিকালে উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের শৈরশই গ্রামের গনক বাড়িতে রাহুল ও সাফোয়ান নামে দুই কিশোর ফুটবল খেলে। তখন ফুটবল পড়ে একই বাড়ির উদ্দীপন এনজি কর্মী সোহাগ আলমের ছেলে আনাছুর রহমান (১) মাথায় আঘাত পায়। পরে রাহুল ও সাফোয়ানের কাছে শিশুটির মা আমেনা আক্তার বিথী ফুটবল মারার কারণ জিজ্ঞেস করেন। এ নিয়ে আমেনার সঙ্গে তাদের স্বজনদের বাগবিতণ্ডা হয়। সন্ধ্যায় শিশুটির অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতাল নেওয়া হয়। পথে রাহুলের বাবা রাজন হোসেন ও সাফোয়ানের বাবা মো. লিপনসহ স্বজনরা শিশুটির বাবা সোহাগকে আইনের আশ্রয় না নিতে হুমকি দেয়।
এদিকে শিশুটিকে হাসপাতাল ভর্তি করার পর রাহুল-সাফোয়ানদের স্বজন মাসুদ, তুষার, কামালসহ কয়েকজন সেখানে যায়। একপর্যায়ে শিশুটির ফুফু জান্নাতুল ফেরদাউসের চুল টেনে তাকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে। ঘটনাটি শিশুর সোহাগ তার আত্মীয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংগঠক রেদোয়ানকে জানায়। পরে রেদোয়ানসহ কয়েকজন ঘটনাটি জানতে হাসপাতালে যায়। এতে তুষার, মাসুদ ও কামাল ২০-২৫ জন লোক নিয়ে লাঠিসোটা দিয়ে রেদোয়ানদের পিটিয়ে আহত করে। পরে তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে।
নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহবায়ক মাহবুব আলম বলেন, হামলার ঘটনাটি ন্যাক্কারজনক। এ ঘটনায় জড়িত সকলকে গ্রেপ্তারের জন্য আমরা পুলিশকে বলেছি।
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল বাশার বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৩ জনকে আটক করা হয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর