জাতীয় নাগরিক পার্টির (
এনসিপি) আহ্বায়ক
নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে গুণগত পরিবর্তন আনতে হলে সব রাজনৈতিক দলকে আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি মনে করেন, নির্বাচন কমিশনের উচিত এই বিষয়ে কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রয়োগ করা, যাতে নির্বাচনের সময় অর্থ ও পেশিশক্তির অপব্যবহার রোধ করা যায়।
বুধবার (৪ জুন) রাজধানীর রূপায়ণ টাওয়ারে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি জানান, এনসিপি একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলতে চায়। এজন্য দলটি আয়, ব্যয়, বরাদ্দ এবং অনুদানের উৎসসহ প্রতিটি আর্থিক খাতের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করেছে।
তিনি বলেন, "আমরা আমাদের জায়গা থেকে সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। আগামী দিনে আমাদের অর্থ কোন কোন খাতে ব্যয় করা হয়েছে, সেটা আমরা জনগণের সামনে উন্মুক্ত করব।"
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, এনসিপি জনগণের সমর্থন নিয়ে এগিয়ে যেতে চায়। তিনি বলেন, "আমরা জনগণের আন্দোলনের মধ্য থেকে গড়ে উঠেছি। যদি জনগণ আমাদের সমর্থন না দেয় তাহলে রাজনৈতিকভাবে বা নৈতিকভাবে বাংলাদেশে আমরা টিকে থাকতে পারব না। ফলে আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সেই জনগণের সমর্থন নেওয়া।"
নাহিদ ইসলাম আরও জানান, চলতি মাসেই এনসিপি নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করবে। তিনি বলেন, "এ মাসে নির্বাচন কমিশনে আমরা নিবন্ধনের জন্য যাবো। তখন আমরা দলের সব হিসেব জমা দেবো। কারণ আমাদের মূল উদ্দেশ্য জনগণের সমর্থন নিয়ে এগিয়ে যাওয়া।"
তিনি আরও বলেন, "আমরা চাই, রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে অন্য রাজনৈতিক দলগুলোরও এই আর্থিক স্বচ্ছতার বিষয়টি আসতে হবে। যদি সবাই আর্থিক স্বচ্ছতার বিষয়টি নিয়ে আসতে পারে তাহলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটা গুণগত পরিবর্তন আসবে।"
এনসিপির সদস্য সচিব
আখতার হোসেন জানান, দলটি অনলাইন ও অফলাইনে ক্রাউড ফান্ডিং কার্যক্রম শুরু করেছে। তিনি বলেন, "আপনার অনুদান, আগামীর বাংলাদেশ"—এই স্লোগানকে সামনে রেখে আমরা গণচাঁদা সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করেছি। donate.ncpbd.org এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ব্যাংকিং এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নাগরিক পার্টির সদস্য এবং সমর্থকরা আর্থিক অনুদান দিতে পারবেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর