প্রকাশ: বুধবার, ৪ জুন, ২০২৫, ৯:৫৬ পিএম

রাতের আঁধারেও থামেনি গাড়ির স্রোত: ঈদযাত্রায় বাইপাইলের চিত্র
মহাসড়ক যেন এক আলোকিত স্রোতধারা—হেডলাইটের আলো ভেদ করে যাচ্ছে রাতের অন্ধকার। বাইপাইল এলাকায় ঈদের আগের রাতে দেখা গেল এমনই দৃশ্য। ঘড়ির কাঁটা রাত সাড়ে ৯টা ছুঁয়েছে, তবুও থামেনি যানবাহনের সারি কিংবা ঘরমুখো মানুষের ভিড়।
দিনভর যেমন ভিড় ছিল বাস কাউন্টারগুলোতে, রাতেও তার কমতি নেই। কেউ কেউ শেষ মুহূর্তের টিকিট পেতে অপেক্ষায়, কেউবা টিকিট হাতে গন্তব্যের বাসের প্রতীক্ষায় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে।
রংপুরগামী মরজিনা আক্তার জানালেন, ‘‘আজ অফিস ছুটি হয়েছে। ছোট দুই সন্তানকে নিয়ে বাবা-মায়ের কাছে ঈদ করতে যাচ্ছি। অনেক কষ্টে টিকিট জোগাড় করেছি, গাড়ির অপেক্ষায় আছি।’’
শিল্পাঞ্চলের পোশাক কারখানার শ্রমিক শিরিনা বেগম বললেন, ‘‘দুপুরে ছুটি পেয়েছি। ভাবছিলাম রাতের দিকে ভিড় কম হবে, কিন্তু এখানে এসেও দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। গরম কিছুটা কম, তাই রাতেই রওনা হচ্ছি।’’
বাসচালক মতিন মিয়া জানান, রাতেও যাত্রীদের চাপ কম নয়, ‘‘আমরা চেষ্টা করছি সবাইকে নিরাপদে পৌঁছে দিতে।’’
চালক আজিজুল হক বলেন, ‘‘সকাল থেকে একটানা গাড়ি চালাচ্ছি। রাস্তায় যানজটও আছে, তবে মানুষের মুখের দিকে তাকালে ক্লান্তি ভুলে যাই।’’
বাইপাইলের রাস্তার দুই পাশে শুধু অপেক্ষারত নয়, চোখে পড়েছে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রাও। অনেকেই ট্রাক, পিকআপ কিংবা কাভার্ডভ্যানে গাদাগাদি করে বাড়ি ফিরছেন। নিরাপত্তা নিয়ে তাদের ভাবনা কম, একটাই লক্ষ্য—যেভাবেই হোক আপন ঠিকানায় ঈদের দিনটি কাটানো।
ঈদের আগে এমন দৃশ্য যেন বাংলাদেশের চিরচেনা চিত্র—নাড়ির টানে ঘরে ফেরা মানুষের দুরন্ত ছুটে চলা।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেএইচ