প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ জুন, ২০২৫, ৬:৫৪ পিএম

কোরবানির ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই আলোচনায় আসছে ‘সান্ডা’। তবে এটি সৌদি আরবের মরুর সেই সান্ডা নয়, বরং বিশালাকৃতির এক কোরবানির ষাঁড়ের নাম। ঢাকার ধামরাই উপজেলার ইকুরিয়া গ্রামের তরুণ খামারি নাঈম হোসেনের খামারে বেড়ে ওঠা এই ষাঁড়টি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড় তুলেছে।
খামারি জানিয়েছেন, ‘সান্ডা’ নামের ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড়টির উচ্চতা ছয় ফুট ছয় ইঞ্চি, দৈর্ঘ্য দশ ফুট এবং ওজন প্রায় ৩১ মণ। এর দাম হাঁকা হয়েছে ১৫ লাখ টাকা, যদিও এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ প্রস্তাব এসেছে নয় লাখ টাকার মতো। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে এই ‘সান্ডা’ কিনলেই খামারি বিনামূল্যে দিচ্ছেন আরেকটি কোরবানির পশু—একটি খাসি, যার নাম ‘পান্ডা’। পান্ডা একটি মাঝারি আকৃতির খাসি, যেটিকে তিন বছর ধরে লালন-পালন করেছেন নাঈম।
খামারি জানান, তিন বছর আগে নিজের খামারে একটি বাছুর মোটাতাজা করার পরিকল্পনা করেন কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে। শুরু থেকেই পশু চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আদর্শ খাদ্য তালিকা অনুসরণ করে সান্ডা ও পান্ডাকে বড় করেছেন তিনি। গেল বছর সান্ডার আকার বড় হলেও কাঙ্ক্ষিত দামে বিক্রি না হওয়ায় এবার ঈদের মৌসুম পর্যন্ত অপেক্ষা করেছেন।
তীব্র গরমে সান্ডাকে দিনে তিন থেকে চারবার গোসল করানো হয়। মশার উপদ্রব থেকে রক্ষায় গোয়ালঘরে নিয়মিত মশানাশক স্প্রে করা হয় এবং যেন অতিরিক্ত গরমে কষ্ট না পায় সেজন্য ফ্যানের বাতাসে রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। সান্ডার রোজকার খাদ্য তালিকায় রয়েছে খৈল, ভেজানো ছোলা, ভুট্টা, গমের ভুসি, কুমড়া ও তাজা ঘাস। প্রতিদিন তার পরিচর্যা ও খাবারের পেছনে খরচ হয় পাঁচ থেকে সাতশো টাকা।
এই বিশাল ষাঁড় দেখতে ইতোমধ্যেই দর্শনার্থীদের ভিড় জমেছে ধামরাইয়ের ওই খামারে। তবে এত উচ্চ মূল্যে স্থানীয়ভাবে ক্রেতার অভাব রয়েছে। এর মধ্যেই একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী নয় লাখ টাকা পর্যন্ত প্রস্তাব দিয়েছেন। তবু খামারি নাঈম ও তার পরিবার মনে করছেন, রাজধানীতে নিয়ে গেলে সান্ডাকে ১৫ লাখ টাকায় বিক্রি করা সম্ভব হবে। তার সঙ্গে রয়েছে আকর্ষণীয় অফার—সান্ডা কিনলে একেবারে ফ্রি ‘পান্ডা’ খাসি।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর