বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
দেশকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ দেয়া হবে না       নৈরাজ্য ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মোংলায় বিএনপির বিক্ষোভ       আওয়ামী লী‌গের তিন নেতা গ্রেপ্তার      সাতক্ষীরায় জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রকল্পের সমাপনী      সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ       আইনশৃঙ্খলা সভায় হট্টগোল, তর্কে জড়ালেন এমপি হান্নান      লাতিন আমেরিকার দুই দলকে হারাল জাপান-কোরিয়া      কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে ৫১ কিশোর আটক      প্রথম ১৪ ওয়ানডেতেই ইতিহাস গড়লেন ম্যাথু ব্রিটজকে      ২৫ সেপ্টেম্বরের মুর্তজা কিজিলবাশের কনসার্ট স্থগিত      অঙ্কন-নন্দিতার দ্বৈত কণ্ঠে আজ প্রকাশিত হচ্ছে ‘মথুরা’      ফোটন সার্ভিস সেন্টারের উদ্বোধন      
ভৈরবে ভাঙনের ঝুঁকিতে যমুনা তেল ডিপো ও বিএডিসি সার গুদাম
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ জুন, ২০২৫, ৬:১৭ পিএম
 ভাঙন শুরু হলে ডিপোর জেটিসহ দু’তলা ভবনটিও নদী গর্ভে বিলীন হতে পারে

ভাঙন শুরু হলে ডিপোর জেটিসহ দু’তলা ভবনটিও নদী গর্ভে বিলীন হতে পারে

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে নদী ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে যমুনা তেল ডিপো ও বিএডিসি সার গুদাম। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিরুদ্ধে কাজের ধীরগতির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। 

এই বছর নদী ভাঙন রোধ করতে পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় ৭ থেকে ৮ শর মতো জিওব্যাগ প্রস্তুত করলেও রহস্য জনক কারণে জিওব্যাগগুলো সময় মত যথাস্থানে না ফেলায় পানিতে তলিয়ে গেছে জিওব্যাগগুলো। ফলে ভাঙ্গনের ঝুঁকিতে পড়েছে যমুনা অয়েল কোম্পানি, বিএডিসি সার গুদামসহ স্থানীয় বসত বাড়ি। পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে দ্রুত সময়ের মধ্যেই ব্যাগগুলো ডাম্পিং করা হবে বললেও আতঙ্ক কাটেনি স্থানীয়দের। 

সরেজমিনে জানা যায়, গত ৮ ই আগস্ট রাত আনুমানিক ৩টার দিকে শুরু হয় মেঘনা নদীর তীরবর্তী যমুনা অয়েল কোম্পানি এলাকায় নদী ভাঙন। ওই সময় মেঘনার করাল গ্রাসে একে একে যমুনা অয়েল কোম্পানির সাইড ওয়াল, প্রতিরক্ষা বাদ ও পাশের বিএডিসি সার গোডাউনের সামানে ১৯টি দোকান ও বসতঘর সহ বাইপাস সড়কের একাংশ বিলীন হয়ে যায় নদীগর্ভে। এই সময় ভাঙনরোধ কল্পে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক বালু ভর্তি ২৫ হাজার জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলে ভাঙন রোধ করা হয়। গত বছরের শেষদিকে ভৈরবে বাজার এলাকায় অসময়ে আবারো ভাঙন দেখা দিলে জিও ব্যাগ ফেলা হয়। ওই সময় আসন্ন বর্ষাকালে ভাঙ্গনের হাত থেকে দুটি সরকারি প্রতিষ্ঠান রক্ষায় এক কোটি পঁচিশ লাখ টাকায় দুটি টেন্ডারে আরো ২৫ হাজার জিও ব্যাগ ফেলার কার্যাদেশ পায় আমিন কোম্পাণি সহ দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।


গত এপ্রিলের শেষ দিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড ভৈরবের বিভিন্ন স্থানে ৭ থেকে ৮ শ জিও ব্যাগে বালি ভরাট করে। সময় মত ব্যাগগুলো না ফেলায় এই কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণে জিও ব্যাগগুলো পানির নিচে ডুবে গেছে। রহস্যজনক কারণে এইগুলো ফেলার কোন উদ্যোগ গ্রহণ না করায় জনমনে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাঙন কবলিত স্থানে জিও বেগ আর জিও টিউব ফেলে দুটি সরকারি প্রতিষ্ঠান সহ স্থানীয়দের ঘরবাড়ি রক্ষার্থে পানি উন্নয়ন বোর্ড পদক্ষেপ নেবে এমনটাই প্রত্যাশা ভুক্তভোগীদের।

যমুনা অয়েল কোম্পানী লিমিটেড ডিপো ইনচার্জ মতিউর রহমান জানান, গত বছর ৮ আগস্ট নদীতে ঘূর্ণায়মান শ্রোতে ভৈরব বাজার ডিপোর বাউন্ডারি দেয়াল, পৌরসভার বাইপাস সড়ক, ২০টি বসত বাড়িসহ বেশ কয়েকটি দোকানপাট ও বিএডিসি সারগুদামের সম্মুখ ভাগ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এরপর সাময়িক প্রোটেকশনের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড বেশ কিছু জিওব্যাগ ভাঙন কবলিত স্থানে ফেলে। ভাঙ্গন রোধে এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। এখানে ফেলার জন্য সাত থেকে আটশর মত জিওব্যাগ আবারো ভরাট করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এগুলোও এখন বর্ষার পানিতে তলিয়ে গেছে। এ অবস্থায় আমরা আতঙ্কে আছি, আবার ভাঙন শুরু হলে ডিপোর জেটিসহ দু’তলা ভবনটিও নদী গর্ভে বিলীন হতে পারে। তাই আমিসহ আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ একাধিকবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে যোগাযোগ করেছি কিন্তু এখনো পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কাজ শুরু হয়নি। 

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন ভৈরব কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শিপন কুমার সরকার বলেন, “গত বছর এখানে একটা ঘূর্ণয়ন সৃষ্টি হওয়ায় আমরা নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়েছি। বর্ষা শুরু হওয়ায় আমরা এ বছরও আতঙ্কগ্রস্ত আছি। এ বছরও ভাঙন রোধকল্পে পানি উন্নয়ন বোর্ড পাঁচ-ছয়শর মতো জিওব্যাগ রেডি করেছিলো। কাজের ধীরগতি হওয়ায় প্রস্তুতকৃত ব্যাগগুলো বর্তমানে বর্ষার পানির নিচে ডুবে আছে। বিএডিসি সার গুদাম ও যমুনা অয়েল কোম্পানি সহ আশপাশের স্থাপনাগুলো রক্ষার্থে কাজটা দ্রুত শেষ করলে ভাঙ্গনের কবল থেকে অন্তত এ দুটি প্রতিষ্ঠান রক্ষা পাবে।”

যমুনা অয়েল কোম্পানি ভৈরব ডিপোর সিনিয়র এ্যাসিষ্টেন্ট মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, “বার বার স্থায়ী বাধ নির্মাণের দাবি জানিয়ে এলেও এর কোনো সুরাহ হচ্ছে না। যমনু ও পদ্মা তেলে ডিপোসহ বিএডিসি সার গুদামটি নিয়ে ঝুঁকির মধ্যে আছি। এ বর্ষায় যদি ভাঙন রোধ করা না যায় তাহলে বৃহত্তর ময়মনসিংহসহ ১৬ জেলায় এখান থেকে তেল সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হবে।”

এলাকাবাসী লিজা বেগম বলেন, “গত বছরও ভাঙ্গনের কারণে প্রায় ২০টি ঘর ও দোকান নদীতে ডুবে গেছে। গত কয়েক মাস ধরেই এখানে বালু দিয়া বস্তা ভরছে এবার যাতে না ভাঙ্গে সেজন্য বস্তাগুলো ফেলবে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত তারা বস্তাগুলো ফেলতেছেনা। বস্তাগুলো এখন পানিতে ডুবে গেছে।”  

সেলুন মালিক চন্দ্র দাস বলেন, “এখানে আমার একটা সেলুন সহ ১৭ থেকে ১৮টা বসত ঘর সহ ছিল। একটি বাইপাস রাস্তা ছিলো যা গত বছর ভাঙ্গনে তলিয়ে গেছে। কয়েক মাস যাবত শুনে আসছি এখানে বালু দিয়ে ভরাট করা বস্তা ফেলা হবে যাতে ভাঙ্গনে ক্ষতি না হয়। পানি অতি নিকটে চলে এসেছে। আমরা এখন অনেক ভয়ে এখানে বসবাস করছি।” 


স্বদেশ প্রতিদিন/আইএমএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  নদী   ঝুঁকি   গুদাম  






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close