
আসছে শনিবার ঈদ-উল-আযহা। কোরবানির ঈদের অন্যতম প্রস্তুতির অংশ হচ্ছে রান্নার জন্য মসলা কেনা। এ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন জায়গার মতো বগুড়ার বাজারগুলোতেও মসলার চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ। আর এই চাহিদাকে ঘিরেই কিছু কিছু মসলার দাম বেড়েছে আকাশচুম্বী হারে।
রবিবার (১ জুন) বগুড়ার ফতেহ আলী, রাজাবাজার ও অন্যান্য বাজার ঘুরে দেখা যায়- বেশিরভাগ মসলার দাম কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও সাদা এলাচ, কালো এলাচ, দারুচিনি, লবঙ্গসহ কিছু গরম মসলার দাম বেড়েছে চোখে পড়ার মতো।
এক বছর আগেও যে সাদা এলাচ কেজি প্রতি ২৮০০-৪০০০ টাকা দামে বিক্রি হতো, এবার সেটিই বিক্রি হচ্ছে ৪০০০ থেকে ৬০০০ টাকা কেজি দরে। কালো এলাচের দাম উঠেছে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত, লবঙ্গের দাম বেড়ে ১৫০০ টাকায়, দারুচিনি এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকার কাছাকাছি দরে।
তবে আশার খবর হলো-আদা, রসুন, পেঁয়াজ ও ধনিয়ার মতো মসলার দাম গত বছরের তুলনায় কমেছে। আদা এখন ১০০-১২০ টাকা কেজি, রসুন ১০০-১৫০ টাকায়, আর পেঁয়াজ ৫০-৫৫ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে।
বগুড়ার রেলবাজার এলাকার মসলা ব্যবসায়ী কার্তিক চন্দ্র রায় জানান, মাত্র এক সপ্তাহ আগে মসলার দাম অনেক কম ছিল। এখন হঠাৎ চাহিদা বাড়ায় দামও বেড়েছে। তবে অতিরিক্ত মজুত করছে না কেউ, তাই দাম উঠানামা করছে।
আরেক বিক্রেতা মিজান মিয়া বলেন, ‘সাধারণত ঈদের সময় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়ে দেয়। তবে এবার সরকারের কড়া নজরদারির কারণে তেমনটা হয়নি।’
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বগুড়া জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মেহেদী হাসান বলেন, ‘এবার বাজার অনেকটাই স্থিতিশীল। এলাচের দাম আমদানি-নির্ভর হওয়ায় কিছুটা বেশি, তবে তা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে নয়। রাজাবাজারে এক ব্যবসায়ীকে ভাউচার ও মূল্য তালিকা না রাখায় জরিমানা করা হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, ঈদের আগ পর্যন্ত বগুড়ার রাজাবাজার ও ফতেহ আলী বাজারে নিয়মিত বাজার মনিটরিং চালানো হবে। ভেজাল বা নিম্নমানের পণ্য পেলে নেওয়া হবে ব্যবস্থা।
মসলা কিনতে আসা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বাজারে মসলার দাম খুবই চড়া। বিশেষ করে গরম মসলা। মনিটরিং নেই বলেই কেউ যা খুশি তাই দাম নিচ্ছে।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম