
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সঙ্গে জানিয়েছে যে, ২৯ মে দৈনিক মানবজমিন, দৈনিক কালবেলা, কালের কণ্ঠ ও এনটিভিসহ আরও কয়েকটি গণমাধ্যম তাদের আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলামের বিরুদ্ধে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর’ সংবাদ পরিবেশন করেছে। এসব সংবাদকে ‘ক্লিকবেইট ও শিকারি সাংবাদিকতা’ বলে অভিহিত করেছে এনসিপি।
এনসিপির পাঠানো এক জরুরি প্রেস-বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মানবজমিনে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে (৮ম পৃষ্ঠা, ১ম কলাম) আতিক মোর্শেদকে মো. নাহিদ ইসলামের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা সঠিক নয়। বাস্তবে, তিনি বর্তমানে এনসিপির প্রধান উপদেষ্টা ফাইজ তাইয়্যেব আহমেদের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এনসিপি দাবি করে, উপদেষ্টা থাকাকালীন ‘নগদ’ বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে থাকায় নগদ সংক্রান্ত বিষয়ে মো. নাহিদ ইসলামকে জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন। দলটির ভাষ্য অনুযায়ী, একটি গোয়েন্দা সংস্থার তথাকথিত ‘রেডিমেড রিপোর্ট’ ব্যবহার করে কিছু গণমাধ্যম মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন প্রকাশ করছে, যা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার নাম ভাঙিয়ে চালানো হচ্ছে।
প্রেস-বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, অতীতে ওয়ান-ইলেভেন আমলেও রাজনৈতিক চরিত্র হননের জন্য এ ধরনের ফরমায়েশি সাংবাদিকতার নজির রয়েছে। এনসিপি আশঙ্কা করছে, বর্তমানেও ঠিক একই ধারা অনুসরণ করে একটি নতুন ‘এক-এগারো’ পরিস্থিতি তৈরির প্রচেষ্টা চলছে।
এনসিপি অভিযোগ করে, কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই একটি বড় রাজনৈতিক দলের মিডিয়া সেল এনসিপির আহ্বায়ককে টার্গেট করে সামাজিক মাধ্যমে “ফটোকার্ড” প্রকাশ করেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
তবে এনসিপি জানিয়েছে, ছাত্র-জনতার প্রতিবাদের মুখে মানবজমিন অনলাইন ভার্সনে সংশোধনী আনলেও, একই দিন কালের কণ্ঠ, কালবেলা ও এনটিভি একটি রাজনৈতিক নেতার ফেসবুক পোস্টকে ভিত্তি করে বিভ্রান্তিকর শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করেছে।
এনসিপি এসব গণমাধ্যমের কাছে বিভ্রান্তিকর তথ্যের অবিলম্বে সংশোধন ও দুঃখপ্রকাশ দাবি করেছে। দলটি উল্লেখ করেছে, গণমাধ্যমের মালিকানা ও পদে হাতবদল হলেও সাংবাদিকতার গুণগত মানে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসেনি।
এছাড়াও, প্রেস-বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়, গণমাধ্যমে রাজনৈতিক দখলদারিত্ব ও ফ্যাসিবাদী সরকারের অনুগত কিছু অলিগার্ক-মালিকানার প্রভাব গণমাধ্যমের নিরপেক্ষতা সংকুচিত করেছে।
এনসিপি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়ন করা হোক। পাশাপাশি তারা ঘোষণা দিয়েছে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমের ওপর যেকোনো দলীয় প্রভাব ও এক-এগারো পুনরাবৃত্তির প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে এনসিপি।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম