
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে সিলেট মহানগর বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় বাগবিতণ্ডায় জড়ালেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আরিফুল হক চৌধুরী ও মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। এ ঘটনায় সিলেটজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
শুক্রবার (৩০ মে) সন্ধ্যায় নগরের দরগা গেট এলাকায় ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সুলেমান হলে অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে এ ঘটনা ঘটে।
আরিফুল হক চৌধুরী সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) সাবেক একাধিকবারের মেয়র।
রেজাউল হাসান কয়েস লোদী সিসিকের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের একাধিকবারের কাউন্সিলর। তিনি সিসিকের সাবেক প্যানেল মেয়রও ছিলেন। কয়েস লোদী সিলেট বিএনপির রাজনীতিতে আরিফুল হক চৌধুরীর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত চেয়ারপারসনের আরেক উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলয়ের নেতা হিসেবে পরিচিত।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে আরিফুল হক প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষ করলে কয়েস লোদী সভাপতির সমাপনী বক্তব্য দিতে আসেন। কয়েস লোদীর বক্তব্য চলার সময় এই বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বেলা চারটার দিকে শহীদ সুলেমান হলে আলোচনা সভা শুরু হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকী, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য সাজেদুল করিম ও সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ সিলেটের আহ্বায়ক শামীমুর রহমান।
মহানগর বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মী জানান, প্রধান অতিথির বক্তব্যের সময় আরিফুল হক অনুষ্ঠানে দলের জ্যেষ্ঠ সারির নেতা অর্থাৎ বেশ কয়েকজন সহসভাপতি ও যুগ্ম সম্পাদকদের অনুপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। দলের প্রতিষ্ঠাতার শাহাদাতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ নেতারা উপস্থিত না হওয়াকে তিনি দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন।
পরে সভাপতির বক্তব্য দিতে এসে রেজাউল হাসান কয়েস লোদী তাঁর বক্তব্য ফেসবুকে লাইভ না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে আরিফুল হক চৌধুরীর উদ্দেশে কিছু কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, এখানে হলভর্তি নেতা-কর্মী রয়েছেন। উপচে পড়া ভিড় রয়েছে। এরপরও কেন তিনি (আরিফুল) জ্যেষ্ঠ নেতারা নেই বলে অভিযোগ করছেন? পরে তিনি ৫ আগস্টের আগে আন্দোলন-সংগ্রামে বিএনপির অনেক নেতা-কর্মীর ভূমিকা রাখার বিষয়ে কথা বলা শুরু করেন।
এ বিষয়ে সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যার কারণে বিএনপি দলটির জন্ম হয়েছে, আমরা এখানে আছি সেই প্রতিষ্ঠাতার শাহাদাতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে মহানগর কমিটির প্রথম সারির বেশিরভাগ নেতা উপস্থিত নেই। ২০ জন সহ-সভাপতি, ১৫ জন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকসহ কমিটির কত জন উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানে? প্রথম সারির নেতারা যদি দলের প্রতিষ্ঠাতার শাহাদাতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে না আসেন- এর চেয়ে দুঃখজনক কি হতে পারে। আমার খারাপ লেগেছে। আমি বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বিষয়টি দেখতে বলেছিলাম।’
এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, ‘আমি তো নেতিবাচক কিছু বলিনি। তিনিই বা এরকম আচরণ কেন করলেন তাও আমার বোধগম্য নয়।’
স্বদেশ প্রতিদিন/কেএইচ