প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ মে, ২০২৫, ১:৪৫ পিএম আপডেট: ২২.০৫.২০২৫ ৪:২৭ PM

নবীনগরের গ্রামাঞ্চলে এক সময় প্রচলিত ছিল বাঁশ ও বেতের তৈরি পণ্যের ব্যাপক চাহিদা। কুলা, ডালা, মাছ ধরার পলো, ঝাঁটা, মই, এমনকি শিশুদের খেলনাও তৈরি হতো বাঁশ ও বেত দিয়ে। একসময় এ শিল্প দিয়ে বহু পরিবার জীবিকা নির্বাহ করত, তবে আধুনিকতার ছোঁয়া এবং পলিথিন-প্লাস্টিকের প্রসারে এখন তা বিলুপ্তির পথে।
স্থানীয় কারিগররা জানান, এই শিল্পে দক্ষতা থাকলেও সরকারি সহায়তা এবং প্রশিক্ষণের অভাবে তারা আজ হতাশ।
শিবপুর গ্রামের আয়নাল হক বলেন, ‘আগে বাঁশের তৈরি আনতা, পাথি, ডোলা বিক্রি করে ৬ জনের সংসার চলত। এখন বাঁশের দাম বেড়েছে এবং বাজারে বাঁশের পণ্যের চাহিদা নেই, তাই অনেক কষ্টে দিন কাটছে।’
দুলাল মিয়া, একজন স্থানীয় কারিগর বলেন, ‘কাজ জানি, কিন্তু ক্রেতা নেই, বাজারে দামও ওঠে না। সরকারের সাহায্য না পেলে এই শিল্প হয়তো খুব শিগগিরই হারিয়ে যাবে।’
আগে যারা এই শিল্পের মাধ্যমে ভালো আয় করতেন, তারা এখন নতুন পেশা গ্রহণ করছেন। অনেকেই অটোভ্যান চালাচ্ছেন বা অন্য কাজে চলে গেছেন। যারা এখনও এই শিল্পে আছেন, তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
বাঁশ ও বেত শিল্প শুধু একটি পেশা নয়, এটি নবীনগরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। এই ঐতিহ্য রক্ষা করতে সরকারের সঠিক পদক্ষেপ জরুরি। কারিগরদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণ, কাঁচামালের সহজলভ্যতা, এবং বাজারজাতকরণের জন্য সহায়তা প্রয়োজন। সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যকর উদ্যোগে এই শিল্প আবারও লাভজনক ও টেকসই হতে পারে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম