প্রকাশ: বুধবার, ২১ মে, ২০২৫, ৬:৩৪ পিএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আইন ও বিচার বিভাগে চরম শিক্ষক সংকট বিরাজ করছে। মাত্র দুইজন স্থায়ী শিক্ষক ও অতিথি শিক্ষক দিয়ে পুরো বিভাগ পরিচালিত হওয়ায় শিক্ষার মান ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
আজ বুধবার (২১ মে) দুপুরে এই সংকট নিরসনে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসানের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন আইন বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, বিভাগের ১১ জন স্থায়ী শিক্ষকের মধ্যে ৯ জনই বর্তমানে শিক্ষা ছুটিতে রয়েছেন। ফলে বিভাগটিতে মাত্র ২ জন শিক্ষক রয়েছেন। বিকল্প হিসেবে কিছু সংখ্যক অতিথি শিক্ষক নিযুক্ত থাকলেও তারা সপ্তাহে মাত্র একদিন ক্লাস নেন এবং শিক্ষার্থীরা তাদের কাছে প্রয়োজনীয় সময়ে সহায়তা পান না। ফলে ধারাবাহিক ও গঠনমূলক পাঠদান বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
শিক্ষার্থী আব্দুল কাদের বলেন, আমরা মিনিমাম একাডেমিক অধিকারের দাবিতে গত ৯০ দিন ক্লাস বর্জনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছি। কিন্তু নতুন প্রশাসনের কাছ থেকেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ মেলেনি। প্রতিদিন হতাশা আরও বাড়ছে।
জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ইতোমধ্যে আইন বিভাগে চারজন শিক্ষক নিয়োগের অনুমোদন দিয়েছে। এমনকি শিক্ষা ছুটিতে থাকা শিক্ষকের সংখ্যার সমপরিমাণ নিয়োগ দিতেও কোনো বাধা নেই। তবুও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি ফলাফলের পুনঃমূল্যায়ন কার্যক্রম নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে। স্মারকলিপিতে তারা উল্লেখ করেন, বিগত শিক্ষাবর্ষে ফলাফলের মান ও নির্ভুলতা নিয়ে অসন্তোষের কারণে পুনঃমূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও দীর্ঘদিনেও তা সম্পন্ন হয়নি। ফলে শিক্ষার্থীরা কোর্স রেজিস্ট্রেশন, চাকরির আবেদন, স্কলারশিপ ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রমে সমস্যার মুখে পড়ছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, আইন বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুরু করা হবে। আমি শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ বুঝি, তবে প্রশাসনিক ব্যস্ততার কারণে একটু দেরি হচ্ছে। আমরা খুব শীঘ্রই এসংকট দূর করার জন্য পদক্ষেপ নিবো।
স্বদেশ প্রতিদিন/আইএমএস