
শেষ চারদিনের টানা ভারী বৃষ্টি ও ভারতীয় আসাম রাজ্যের পাহাড়ি ঢলে মানকারচর কালা নদী দিয়ে বাংলাদেশে সীমান্ত ঘেঁষা জিঞ্জিরাম নদী দিয়ে নেমে আসায় প্লাবিত হয়েছে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বেশ কিছু নিম্নাঞ্চল। এদের মধ্যে রয়েছে রৌমারী সদর, যাদুরচর ও চর শৌলমারী ও শৌলমারী ইউনিয়ন।
এতে প্রায় দেড় শতাধিক হেক্টর জমির পাঁকা বোরোধান, কাউন,চিনা ও শাকসবজি ডুবে গেছে। শ্রমিক সংকট এবং দিনমজুরি ১২০০ টাকা হওয়ায় ধান কাটতে হিশশিম খাচ্ছে কৃষকরা। পাঁকা ধান ডুবে যাওয়ায় হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন তারা।
মঙ্গলবার (২০ মে) বেলা ১১ টায় বিভিন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গিয়েছে, ঝাউবাড়ি, লাঠিয়ালডাঙ্গা, চুলিয়ারচর, বারবান্দা, পূর্বইজলামারী, ভুন্দুরচর, চান্দারচরসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে বন্যার পানি প্রবেশ করে। বন্যার পানি ও ভারী বৃষ্টি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় জিঞ্জিরাম নদী ওইসব এলাকায় প্রবেশে প্লাবিত হয় নিম্নাঞ্চল।

এনজিও থেকে লোন নিয়ে অনেক পরিশ্রম করে এক একর জমিতে ইরি ধানের আবাদ করছিলেন সীমান্ত ঘেঁষা আলগার চর গ্রামের বাসিন্দা কৃষক রবিউল ইসলাম। তিনি বলেন, আশা ছিল এবার অনেক ধান ঘরে তুলতে পারবো কিন্তু বন্যার এ পানিতে সব শেষ হয়ে গেল।
খেওয়ার চর গ্রামের কৃষক লুৎফর রহমান জানান, তিনি দুই বিঘা জমিতে ধানের চাষ করছিলেন। প্রতি বছর এই ধান দিয়ে সংসার চলাতেন তিনি। অন্য বছরের চেয়ে এবার বেশি বৃষ্টি হওয়ায় খালে পানি জমছে, তলিয়ে গিয়েছে সব পাঁকা ধান।
বন্যায় প্লাবিত এলাকার কথা উল্লেখ করে রৌমারী সদর ইউপি সদস্য মা. রুহুল আমিন বলেন, কয়েকদিনের টানা এ বর্ষন ও ভারতের পাহাড়ি ঢলে কয়েকটি গ্রাম ডুবে গিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নতুনবন্দর, ভুন্দুর চর, পূর্ব ইজলামারী ও নামা বারবাদন্দা সহ আরো কয়েকটি এলাকা। বর্তমানে নৌকা ও কলা গাছের ভেলা দিয় পারাপার হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

রৌমারী সদর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক এ বিষয়ে জানান, বন্যায় ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে পানি প্রবেশ করেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপের দিকে যাবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাইয়ুম চৌধুরী জানান, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সীমান্ত ঘেঁষা বিভিন খাল-বিল ও নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করেছে। এতে ডুবে গিয়েছে বোরাধান, কাউন, চিনা, শাকসবজি ও তিলসহ ৮৫ হেক্টর জমির বিভিন ফসল। এতে আংশিক ক্ষতি হওয়ার সম্ভনা রয়েছে। তবে পানি দ্রুত শুকিয়ে গেলে মারাত্মক কোনো ক্ষতি হবেনা বলে আশা করা যাচ্ছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/আইজেপি