প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ মে, ২০২৫, ৫:০৩ পিএম

দিনমজুর-শ্রমিকের কাজ করেই চলে এদের সংসার। কাক ডাকা ভোরে বের হতে হয় সংসারের স্ত্রীসহ ছেলেমেয়েদের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার জন্য। তাইতো প্রতিদিনের ন্যায় হাতে কাস্তে ও কাধে বাইন (বাশের তৈরি জড়বস্তু, যেটির দু'পাশে ভারী পণ্য সামগ্রী বেঁধে রেখে বহন করা হয়) নিয়ে শ্রম বিক্রি করতে নিজে হাজির হয় শ্রমিক বাজারে।
গতকাল সোমবার (১৯ মে) আব্দুল হান্নান (৫৭) দিনভর শ্রম বিক্রি হিসেবে ধান কাটার কাজ শেষ করেও মালিকের কাছ থেকে মজুরী না পাওয়ায় দিশেহারা হয়ে থানায় অভিযোগ করেন। শুধু তিনিই নন, তার সাথে দিনমজুরির টাকা না পাওয়ার অভিযোগ করে আরো চারজন শ্রমিক। ঘটনাটি জেলার শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর সরকার পাড়া গ্রামের রাজেক আলীর ছেলে আব্দুল কুদ্দুস আলীর জমির ধান কাটায় নিয়োজিত শ্রমিকদের সাথে ঘটে। শ্রমিকদের কাজের বিনিময়ে অর্থ না দেওয়া, বাগবিতণ্ডা ও হুমকি ধামকির অভিযোগ তোলেন শ্রমিকরা।
ঘটনায় ওই ভুক্তভোগী ৫ শ্রমিক গতকাল রাতে শেরপুর উপজেলার কুসুম্বী ইউনিয়নের বাগড়া গ্রামের মৃত মোজাম্মেল হকের ছেলে আব্দুল হান্নানকে বাদী করে শেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
শ্রমিকরা বলেন, "তারা প্রতিদিনের ন্যায় তাদের শ্রম বিক্রি করতে শেরপুরের নবীর বালা ঘাটপাড় (করোতোয়া নদীর ব্রীজ) সংলগ্ন 'শ্রমিকের হাট' নামক স্থানে উপস্থিত হয়ে থাকে। আর এখান থেকেই তাদের শ্রম কিনে নিতে অধিকাংশ বিভিন্ন পেশাজীবী মালিকরা দামদর করে দিনমজুর ভাড়া নিয়ে থাকেন। এ বাজার থেকেই তাদের প্রতিদিনের কাজ ও আয়- রোজগারের সন্ধান মেলে। যেদিন শ্রম বিক্রি করতে না পারেন, সেদিন পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকটাই অর্ধাহারে -অনাহারের মধ্য দিয়ে দিনপার করতে হয়। এমন আক্ষেপ ও ক্ষোভ নিয়ে যখন কথাগুলো বলছিলেন ভুক্তভোগী শ্রমিকরা। তখন তাদের চোখে মুখে যেমন ক্লান্তি ছিল, তেমনি ছিল হতাশা আর না পাওয়ার বেদনা।
এ বিষয়ে দিনমজুর আব্দুল হান্নান জানান, শেরপুরের শ্রমিক বাজার থেকে মির্জাপুর সরকার পাড়া গ্রামের ফিরোজ আলী ৭০০ টাকা জনপ্রতি দিনমজুরি দিবে মর্মে আমাদের পাঁচজনকে নিয়ে যায়। আমরা তাদের চাহিদা মত দেড় বিঘা জমির ধান কেটে ও বহন করে জমির মালিকের আঙ্গিনায় নিয়ে আসি। দিনশেষে মালিক ভালো কাজ হয়নি মর্মে অভিযোগ তুলে আমাদের মজুরীর টাকা না দিয়ে গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে তার সাথে বাক বিতন্ডাকালে সে বিভিন্ন হুমকিধামকি দিয়ে আমাদের বিতারিত করে দেয়। মজুরির টাকা ফিরে পেতে উপায়ান্তর না দেখে আমরা থানা পুলিশের আশ্রয় নিয়েছি।
উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, তবে কি করবো ভাই, মজুরির টাকাটা যদি না পাই তাহলে আগামীকাল পরিবারের সবাইকে নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে। তাছাড়া যারা গরিবের হাড় ভাঙ্গা খাটুনির পরেও দিনমজুরের টাকা দিতে চায় না, তাদের শাস্তি হওয়া উচিত।
শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম জানান, শ্রমিকদের এমন মানবিক একটি অভিযোগ পেয়েছি। ওই ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট দারোগাকে বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/আইএমএস