
বিশ্বজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সংঘাত, জলবায়ু বিপর্যয় ও অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে কোটি কোটি মানুষ অনাহারের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছে ‘গ্লোবাল রিপোর্ট অন ফুড ক্রাইসিস’।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি বিরাজ করছে গাজা উপত্যকায়, যেখানে পুরো ২১ লাখ জনগোষ্ঠীই তীব্র খাদ্য সঙ্কটে রয়েছে। ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত এদের অর্ধেকের বেশি ছিল IPC ধাপ-৪ অর্থাৎ ‘জরুরি’ অবস্থায়; অন্যদিকে ৫০ শতাংশের বেশি ছিল IPC ধাপ-৫ বা ‘দুর্যোগ’ অবস্থায়—যা সরাসরি দুর্ভিক্ষ ঘোষণার আগের ধাপ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি নিছক মানবিক বিপর্যয় নয়, বরং দীর্ঘদিনের অবরোধ ও সামরিক আগ্রাসনের ফল। ১৭ বছরের অবরোধ আর একাধিক যুদ্ধ-পর্যায়ের কারণে গাজার অর্থনীতি কার্যত ভেঙে পড়েছে। ২০২৪ সালের শেষে ৭৫ শতাংশ চাষের জমি, ৫৭ শতাংশ গ্রীনহাউস এবং ৬৮ শতাংশ পানির কূপ ধ্বংস হয়ে যায়। উত্তর গাজা ও গাজা গভর্নরেটে ৭০ শতাংশ মানুষ প্রায় সম্পূর্ণরূপে মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
এ অবস্থায় খাদ্যের মূল্য ঊর্ধ্বমুখী। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে গমের আটা ৩,০০০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে। তবুও মানবিক সহায়তা প্রবেশ ব্যাহত হচ্ছে। সহায়তা ট্রাকের সংখ্যা যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম, এবং ২০২৫ জুড়েই দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।
পাকিস্তানেও চিত্র উদ্বেগজনক
এদিকে পাকিস্তানেও খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা আশঙ্কাজনক। যদিও ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ০.৩ শতাংশে নেমেছে, তবে দারিদ্র্য ও বেকারত্ব খাদ্যপ্রাপ্তিকে কঠিন করে তুলছে। ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যা এবং পরবর্তী দুই বছর চরম আবহাওয়ার প্রভাবে বেলুচিস্তান, সিন্ধু ও খাইবার পাখতুনখাওয়ায় কৃষিজীবী পরিবারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব এলাকায় পানিসঙ্কটও প্রকট, যা কৃষি উৎপাদনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমানে পাকিস্তানে প্রায় ১.১ কোটি মানুষ IPC ধাপ-৩ বা তার চেয়েও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে, যার মধ্যে ২২ লাখ মানুষ রয়েছে ‘জরুরি’ পরিস্থিতিতে। অপুষ্টি সমস্যা বাড়ছে, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে। অনেক শিশু কম ওজন নিয়ে জন্ম নিচ্ছে, এবং ডায়রিয়া ও শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
তহবিল সংকটে খাদ্য সহায়তা কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। জাতিসংঘ ও অন্যান্য সংস্থা খাদ্য সহায়তা কমাতে বাধ্য হয়েছে।
দ্রুত পদক্ষেপ জরুরি
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই কার্যকর নীতিমালা গ্রহণ না করলে পাকিস্তান দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য সঙ্কট ও দারিদ্র্যের ঘূর্ণিতে পড়ে যাবে। কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারগুলোকে সামাজিক সুরক্ষা, মাতৃ ও শিশুপুষ্টি কর্মসূচি জোরদার এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষিতে বিনিয়োগের উপর গুরুত্ব দিতে হবে।
তথ্যসূত্র: ডন
স্বদেশ প্রতিদিন/কেএইচ