গত ৫ আগষ্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যত্থানের পর পাল্টে যায় দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপট। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সুকৌশলে বিএনপিতে আশ্রয় নেওয়া চেষ্টা করেন। এ চেষ্টায় অনেকেই সফলও হন। এরই ধারাবাহিকতায় শৈলকূপায় আওয়ামী লীগ নেতা ও হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি বকুল মোল্লা বিএনপিতে আশ্রয় পান। তাকে বিএনপিতে যোগদান করান জেলা যুবদলের সদস্য জাহিদ চৌধুরী। এনিয়ে শৈলকূপা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বকুল মোল্লার গ্রেফতার ও আশ্রয়দাতা জাহিদ চৌধুরীর বহিষ্কারের দাবিতে মানববন্ধনও করেছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার জন্য বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে দাবি জানিয়েছেন তারা। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আগামীতে আরো কঠোর কর্মসূচি পালন করবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
ঘটনার প্রতিবাদে গত ১২ মে সোমবার বিকালে শৈলকূপা শহরের চার রাস্তার মোড়ে এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ পালিত হয়। উপজেলার ৯নং মনোহরপুর ইউনিয়নের বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা বিভিন্ন ব্যানার ফেস্টুন ও প্লাকার্ড নিয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধন শেষে এক প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, মনোহরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাম কাওছার, বিএনপি নেতা সিরাজুল ইসলাম, ইসরাইল হোসেন, শফিউদ্দীন, আব্দুল কাদের মোল্লা, সেচ্ছাসেবক দলের আব্দুল হাকিম জিল্লু ও কৃষকদল নেতা মাজেদুর রহমান পাননা।
প্রতিবাদ সভায় বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন, দামুকদিয়া গ্রামের লুৎফর রহমান মোল্লার ছেলে বকুল মোল্লা চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগের দোসর। তার নেতৃত্বে বিএনপি সভাপতিকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করা হয়। হাসিনার ফ্যাসিবাদি শাসনের ১৬ বছরে বকুল মোল্লা ছিল বেপরোয়া। বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের একাধিক নেতাকে সে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে। বহু বিএনপি কর্মীর বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট করেছে। অথচ তাকেই বিএনপিতে যোগদান করানো হয়েছে। এ ঘটনায় শৈলকুপার নেতাকর্মীরা ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছে।
২০২১ সালের ২৫ জুলাই রাতে রাশিদুল ইসলাম ওরফে উকিল মৃধা নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় হত্যা মামলায় সন্ত্রাসী বকুল মোল্লা ২ নং এজাহারভুক্ত আসামী। এছাড়া তার নামে শৈলকূপা থানায় একাধিক মামলাও রয়েছে।