
কুষ্টিয়ার হাট ও বাজারগুলোতে সময়ের আগেই উঠতে শুরু করেছে অপরিপক্ক লিচু। বাজারে চোখ বুলালেই দেখা যায়- লিচুগুলোর রঙ এখনো সবুজাভ, আকারেও ছোট। তবে এসব লিচু ৮০টি এক পণ হিসাবে বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৫০ টাকা দরে।
অতিরিক্ত লাভের আশায় বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা আগেভাগেই এসব লিচু তুলে এনে বাজারে সরবরাহ করছেন। অথচ সুস্বাদু ও রসালো লিচুগুলো পরিপক্ক হয়ে বাজারে আসতে এখনো অন্তত এক সপ্তাহ সময় লাগবে। এরপরই বাজারে মিলবে আগাম জাতের দেশি, মাদ্রাজি ও বোম্বাই লিচু। কিছুদিন পর বাজারে আসবে চায়না থ্রি ও বেদেনা জাতের লিচু।
প্রতিবছর মে মাসের মাঝামাঝি থেকে জুন মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত দেশের বাজারগুলো লিচুতে ভরে ওঠে। এক মাসের মতোই থাকে লিচুর মৌসুম। ইতিমধ্যেই মাদ্রাজি, বোম্বাই, চায়না থ্রি ও দেলোয়ারি জাতের লিচু বাজারে আসতে শুরু করেছে।
তবে এখন বাজারে যে লিচু বিক্রি হচ্ছে, তার বেশিরভাগই অপরিপক্ক। অনেক লিচুই স্বাদহীন, টক ও শক্ত। এতে করে লিচুর আসল স্বাদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ ভোক্তারা।
সরেজমিনে কুষ্টিয়া পৌরশহরের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা গেছে, মৌসুমি ফল বিক্রেতারা অস্থায়ী দোকানে বিক্রি করছেন দেশি আঁটি জাতের লিচু, মাদ্রাজি, চায়না থ্রি, দেওয়ালি ও বোম্বাই লিচু। শহরের প্রধান বাজার, মজমপুর গেট, চৌড়হাস মোড়, মোল্লাতেঘড়িয়া মোড়, রাইনি বটতলা মোড়সহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার হাট-বাজারে এই লিচু বিক্রি হচ্ছে।
মূল্য বেশ চড়া হওয়ায় অনেকের সাধ থাকলেও সাধ্য নেই পুরো পণ কেনার। ফলে অধিকাংশ ক্রেতা হাফ পণ (৪০টি) কিনছেন। কেউ কেউ এক পণ (৮০টি) নিচ্ছেন।
এমনই এক ক্রেতা, ভ্যান চালক মসলেম উদ্দিন বলেন, ‘ভ্যান চালিয়ে কোনোভাবে সংসার চালাই। বাচ্চারা লিচু খেতে চায়, তাই আবদার রাখতে হাফ পণ কিনেছি। দেখতেই বোঝা যাচ্ছে লিচুগুলো ঠিকমতো পাকেনি। ছোট ছোট লিচুর প্রতিটি পিসের দাম পড়েছে ২.৫ টাকা করে।’
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরিপক্ক এসব লিচু শরীরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. হোসেন ইমাম জানান, বাজারে যেসব লিচু রয়েছে, তার অধিকাংশই এখনো পাকেনি। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত লাভের আশায় আগেভাগেই এসব লিচু বিক্রি করছেন। এই অপরিপক্ক লিচুতে অনেক সময় ক্ষতিকর কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। ভোক্তাদের উচিত আরও ১০ দিন ধৈর্য ধরে পরিপক্ক লিচু কেনা।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম