
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) আন্দোলন নিয়ে নিজের হতাশা ও ক্ষুব্ধতার প্রকাশে কেউ আঘাত পেলে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছেন তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।
পোস্টে মাহফুজ আলম লিখেছেন, ‘আমার হতাশা ও ক্ষুব্ধতা কাউকে আঘাত করলে আমি আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করছি।’
তিনি জানান, জবির দাবিসমূহের যৌক্তিকতা নির্ধারণ করবে শিক্ষা ও অর্থ মন্ত্রণালয়, সঙ্গে থাকবে ইউজিসি। তবে তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থেকেও তিনি শিক্ষার্থীদের দাবির সমাধানে ভিসি ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন।
মাহফুজ আলম বলেন, ‘গত পরশু রাতে জবির কিছু শিক্ষার্থী তাদের দাবি নিয়ে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করলে আমি পরদিন রাত ৯টায় আমার বাসায় আসার আমন্ত্রণ জানাই। তবে তারা সকালে আন্দোলনে নামেন এবং যমুনা নদীর কাছাকাছি পৌঁছে যান। এর পর থেকে আমি ভিসি স্যারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখি।’
তিনি জানান, শেষ পর্যন্ত তিনটি ‘টকিং পয়েন্ট’ ঠিক করে তিনি ভিসি ও শিক্ষকদের সঙ্গে কাকরাইল মোড়ে আন্দোলনকারীদের সামনে যান। সেখানে হঠাৎ একটি গ্রুপ স্লোগান দিতে শুরু করে। এরপর এক শিক্ষার্থী বোতল ছুড়ে মারেন। এই ঘটনা প্রশাসন খতিয়ে দেখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন উপদেষ্টা।
তিনি লেখেন, ‘ওই ঘটনায় আমি হতাশ হয়ে ফিরে আসছিলাম। তখন শিক্ষকদের সঙ্গে আমি আমার ক্ষোভ প্রকাশ করি। গত এক সপ্তাহ ধরে একটি দলের নিয়মিত হুমকি পেয়ে আসছিলাম। ফলে ধারণা করেছিলাম, এটি হয়তো সেই দলেরই কাজ। তবে আমার হতাশা ও ক্ষোভ কারও মনে আঘাত দিয়ে থাকলে আমি দুঃখিত।’
মাহফুজ আলম আরও জানান, ওই রাতেই তিনি ডিএমপি কমিশনারকে অনুরোধ করেন যেন জবির শিক্ষার্থীদের জোর করে সরানো না হয়, কিংবা তাদের ওপর কোনো আক্রমণ না চালানো হয়।
উপদেষ্টা বলেন, ‘জবির শিক্ষার্থীদের আবাসনের দাবি ন্যায্য। আশা করি, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানগুলো যৌক্তিক ও স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাবে। জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে জবির শিক্ষার্থীদের আত্মত্যাগ আমাদের আত্মিকভাবে যুক্ত করেছে। আমি চাই না, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কারণে এই বন্ধন ছিন্ন হোক।’
তিনি জানান, আন্দোলনের দাবিগুলোর প্রতি তার একাত্মতা রয়েছে এবং সমাধানের রোডম্যাপ ও পুলিশি হামলার তদন্তের আশ্বাস তিনি সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে দিয়েছেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেএইচ