প্রকাশ: বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫, ৮:৪২ পিএম আপডেট: ১৪.০৫.২০২৫ ১১:১৩ PM

বগুড়ায় বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার কর্মসূচিতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে উদীচী ও ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মী রয়েছেন। এমন অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী।
আজ বুধবার (১৪ মে) বিকেলে বগুড়া শহরের সাতমাথা মোড়ে উদীচীসহ বেশ কয়েকটি সংগঠন মিলে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করাকালীন সময়ে এই ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর জেলা কার্যালয়েও ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদ। এক বিবৃতিতে উদীচী জানায়, স্বাধীনতা যুদ্ধের চেতনা ও জাতীয় প্রতীক নিয়ে ধর্মান্ধ গোষ্ঠীগুলোর চক্রান্ত কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যাবে না। বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীত ত্রিশ লাখ শহীদের রক্ত এবং দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত। একে অবমাননা করার অর্থ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ফেলা।
বগুড়া উদীচীর সাধারণ সম্পাদক সাহেদুর রহমান বিপ্লব বলেন, আমরা কর্মসূচির স্থান পরিবর্তন করলেও হামলাকারীরা সেখানে এসে পুলিশের উপস্থিতিতেই হামলা চালায় এবং আমাদের অফিসের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে।
এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে উদীচীর বিবৃতিতে আরো বলা হয়, জাতীয় পতাকা, জাতীয় সংগীত কারও দানে পাওয়া না। ত্রিশ লাখ শহীদের রক্ত আর দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে এগুলো অর্জন করা হয়েছে। কিন্তু ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর থেকেই একটি স্বার্থান্বেষী ধর্মান্ধ গোষ্ঠী জাতীয় সংগীত, জাতীয় পতাকা পরিবর্তন করা থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধের মূল সুরকে নস্যাৎ করার চক্রান্তে লিপ্ত। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বকে কোনভাবেই নস্যাৎ হতে দেওয়া যাবে না।
এ বিষয়ে বগুড়া জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(মিডিয়া) আতোয়ার রহমান বলেন, ‘উদীচীর ঢাকার অনুষ্ঠানের সাথে সমন্বয় করে বগুড়া সদরের খোকন পার্কে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার আয়োজন করা হয়। একইসঙ্গে এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারাও সেখানে অবস্থান নেয়। পরে টেম্পল রোডের উদীচীর কার্যালয়ে ভাংচুর করতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।’
স্বদেশ প্রতিদিন/আইএমএস