
ময়মনসিংহের ত্রিশালে টনসিল অপারেশনের সময় চিকিৎসকের অসতর্কতায় তাইয়্যিবা তাবাসসুম তন্দ্রা (১২) নামে এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ময়মনসিংহের ত্রিশালে টনসেল অপারেশনে চিকিৎসকের অসতর্কতায় শ্বাসনালি কেটে তাইয়্যিবা তাবাসসুম তন্দ্রা নামের এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মারা যাওয়া ১২ বছরের শিশু তাইয়্যিবা তাবাসসুম তন্দ্রা ত্রিশাল পৌর শহরের রাহেলা-হযরত মডেল স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তন্দ্রা উপজেলার বীররামপুর গফাকুড়ি মোড় এলাকার ব্যবসায়ী মো. গোলাপ মিয়ার কন্যা। শিশুটির অকাল প্রয়াণে স্কুলের শিক্ষক, সহপাঠি ও এলাকাবাসী গভীরভাবে শোকাহত।
পারিবারিক সূত্র জানাযায়, তাইয়্যিবা তাবাসসুম তন্দ্রা টনসিলের সমস্যায় ভুগছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য পরিবারের সদস্যরা তাকে ময়মনসিংহের চরপাড়া এলাকার এপেক্স হসপিটালের চিকিৎসক কামিনী কুমার ত্রিপুরার কাছে নিয়ে যান। চিকিৎসকের পরামর্শে শিশুটিকে অপারেশনের জন্য ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নিহত শিশুর স্বজনের অভিযোগ, শনিবার (১০ মে) রাতে টনসিলের অপারেশনের সময় চিকিৎসকের অসতর্কতার কারণে তার শ্বাসনালি কেটে যায়। এতে অপারেশনের টেবিলেই মৃত্যু হয় তার।
কামিনী কুমার ত্রিপুরা কিশোরগঞ্জের প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের নাক, কান ও গলা বিভাগের চিকিৎসক। অবসরে এপেক্স হাসপাতালে রোগী দেখেন তিনি। এ ব্যাপারে ডা. কামিনী কুমার ত্রিপুরার সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
গোলাপ মিয়ার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তন্দ্রার অকাল মৃত্যুতে দিশেহারা বাবা-মা। চোখের সামনে একটি সুস্থ, স্বাভাবিক শিশুর অপারেশনের টেবিলে এভাবে মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছেন না। মর্মান্তিক এ সংবাদে শিশুটির পরিবারে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বাবা-মায়ের আহাজারি আকাশ-বাতাস ভারী করে তুলেছে।
কান্না জড়িত কন্ঠে নিহতের চাচা আবুল কালাম বলেন, ‘আমরা আমাদের মেয়েকে সুস্থ করার আশায় এ হাসপাতালে এনেছিলাম। আর এ ডাক্তারই আমাদের মেয়েকে মেরে ফেলল। এটা কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, এটা স্পষ্টতই ডাক্তারের অবহেলা। আমরা এর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার চাই। অবিলম্বে এ ঘটনার তদন্ত এবং অভিযুক্ত ডাক্তারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।’
রাহেলা-হযরত মডেল স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘এ হৃদয়বিদারক ঘটনাটি কেবল একটি পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি নয়, এটি সমাজের প্রতিটি বিবেকবান মানুষের মনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করবে। আমাদের সবার প্রত্যাশা, স্থানীয় প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য বিভাগ অতি দ্রুত এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করবে এবং দোষী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করবে।’
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম