
ড্রোন যুদ্ধ শুরু হয়েছে দক্ষিণ এশিয়ায়। গতকাল বৃহস্পতিবার (৮ মে) পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতীয় ভূখণ্ড এবং ভারত-শাসিত কাশ্মীরে তিনটি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর অভিযোগ করেছে ভারত। তবে ইসলামাবাদ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
৩০০-৪০০ ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান, এমন অভিযোগ এনে ভারত প্রাথমিকভাবে বলছে ড্রোনগুলো তুরস্কের তৈরি। বিপরীতে পাকিস্তান দাবি করেছে, তারা সাম্প্রতিক কয়েক ঘণ্টায় ২৫টি ভারতীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তবে এই বিষয়ে নীরব থাকে দিল্লি। ভারত আরো দাবি করেছে, তারা বেশ কয়েকটি পাকিস্তানি বিমান প্রতিরক্ষা রাডার এবং সিস্টেমকে নিষ্ক্রিয় করেছে, যার মধ্যে লাহোরে একটিও রয়েছে। যা অস্বীকার করে পাকিস্তান।
আমেরিকাসহ অন্যান্য বিশ্বশক্তিরা যখন দ্রুতই সংযমের আহ্বান জানাচ্ছে, তখন নীরব, দূরবর্তী এবং অস্বীকারযোগ্য ড্রোনের মাধ্যমে ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হচ্ছে।
বুধবার সকালে পাকিস্তান জানিয়েছে, ভারতীয় বিমান হামলা এবং সীমান্তের ওপার থেকে গুলিবর্ষণে পাকিস্তান এবং পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে ৩৬ জন নিহত এবং ৫৭ জন আহত হয়েছে। অন্যদিকে, ভারতীয় সেনাবাহিনী জানিয়েছে পাকিস্তানের গোলাগুলিতে কমপক্ষে ১৬ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ছিল গতমাসে পহেলগামে ভারতীয় পর্যটকদের ওপর একটি মারাত্মক সন্ত্রাসী হামলার প্রতিশোধ।
বৃহস্পতিবার পাকিস্তান সেনাবাহিনী ঘোষণা করেছে, তারা করাচি, লাহোর এবং রাওয়ালপিন্ডিসহ বিভিন্ন শহরে ২৫টি ভারতীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে। ভারতের হামলাকে 'সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন' ও 'যুদ্ধের কর্মকাণ্ড' উল্লেখ করে প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ইসরায়েলরে তৈরি 'হারোপ' ড্রোনগুলো - প্রযুক্তিগত এবং অস্ত্র-ভিত্তিক পাল্টা ব্যবস্থা উভয় পদ্ধতি ব্যবহার করে ধ্বংস দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।
বিবিসির বরাতে জানা যায় লাহোরের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক এজাজ হায়দার বলেন, পাকিস্তানের ড্রোন বহর 'বিস্তৃত এবং বৈচিত্র্যময়', যার মধ্যে দেশীয় এবং আমদানিকৃত উভয় ধরণের সিস্টেম রয়েছে। 'এক হাজারেরও বেশি ড্রোন' রয়েছে তাদের, যার মধ্যে চীন, তুরস্ক এবং দেশীয় নির্মাতাদের মডেল। আরো রয়েছে চীনা সিএইচ-৪, তুর্কি বায়রাকতার আকিনসি এবং পাকিস্তানের নিজস্ব বুরাক এবং শাহপার ড্রোন।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, ভারতের ড্রোন বহর মূলত ইসরায়েলি-নির্মিত গোয়েন্দা ড্রোন। যেমন: আইএআই সার্চার এবং হেরন, এর সঙ্গে হার্পি এবং হারোপ যুদ্ধাস্ত্রের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়। ড্রোনগুলো ক্ষেপণাস্ত্র হিসাবে কাজ করে, স্বায়ত্তশাসিত গোয়েন্দা এবং নির্ভুল আঘাত করতেও সক্ষম।
স্বদেশ প্রতিদিন/আইএমএস