
ভারতের দাবি, পাকিস্তান এক রাতেই ভারতের দিকে বৃষ্টির মতো প্রায় ৫০০টি ড্রোন পাঠিয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে লাদাখ থেকে গুজরাট পর্যন্ত অন্তত ২৪টি স্থানে এই ড্রোনগুলো দেখা যায়।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ড্রোনের বেশিরভাগই অস্ত্রবিহীন ছিল এবং ক্যামেরা সংযুক্ত ছিল, যেগুলোর মাধ্যমে পাকিস্তান ভারতের অভ্যন্তর থেকে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেছে বলে দাবি করছে দিল্লি।
ভারতীয় প্রতিরক্ষা সূত্র জানিয়েছে, প্রায় ৫০টি ড্রোন গুলি করে ধ্বংস করা হয়েছে, এবং আরও ২০টি ‘সফট কিল’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে নামানো হয়েছে। তবে এ নিয়ে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে ভারত জানায়, ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে একটি অভিযানে মঙ্গলবার গভীর রাতে পাকিস্তান ও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের অন্তত ৯টি শহরে একযোগে হামলা চালানো হয়। জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ভারত এই অভিযান চালানোর দাবি করে।
পরে বৃহস্পতিবার সারাদিনজুড়ে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে আরও ড্রোন হামলা চালানো হয়।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী জানান, ভারতের হামলায় বাহাওয়ালপুরের আহমেদপুর পূর্বাঞ্চলে ১৩ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছে একটি দুই বছর বয়সী শিশু, সাতজন নারী ও চারজন পুরুষ। আহত হয়েছেন আরও ৩৭ জন।
পাকিস্তান দাবি করেছে, পাল্টা প্রতিরোধে তারা ভারতের ৫টি যুদ্ধবিমান ও একটি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছে। আইএসপিআরের মহাপরিচালক জানান, ৩টি রাফায়েল, ১টি মিগ-২৯, ১টি এসইউ যুদ্ধবিমান এবং ১টি হেরন ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
এই পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্য দিয়ে ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। এখনো পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা না হলেও, বাস্তবে পরিস্থিতি সীমান্ত যুদ্ধের দিকেই এগোচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়ার
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম