প্রকাশ: শুক্রবার, ৯ মে, ২০২৫, ১:০৪ AM

টাঙ্গাইলে এলজিইডির দুটি রাস্তার কাজ সম্পন্ন না করে ৫৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনে মামলা দায়ের হতেই রাস্তা দুটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। দুদকের চাপ ও এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরের হুমকির মুখে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে।
জানা গেছে, ২০১৯ সালের আগস্টে নাগরপুর উপজেলার দপ্তিয়র ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তেবাড়িয়া রাস্তায় দপ্তিয়র বাজার থেকে কদিম কাকনা পর্যন্ত ১৬০০ মিটার পিচ ঢালাই ও তিনটি বক্স কালভার্ট নির্মাণের জন্য মেসার্স ফেন্ডস কনস্ট্রাকশন নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দুই কোটি ২০ লাখ টাকায় কাজের চুক্তি করে।
অন্যদিকে, একই উপজেলার গয়হাটা থেকে ভাড়রা রাস্তায় সিংজোড়া থেকে নাটোরভাঙা পর্যন্ত পিচ ঢালাই কাজের জন্য ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে চার কোটি ৪০ লাখ টাকায় মেসার্স সৈয়দ মজিবর রহমান অ্যান্ড অবনী এন্টারপ্রাইজের(জেভি) চুক্তি হয়। এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর একাধিকবার তাগিদ দিলেও অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। ফলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সীমাহীন কালক্ষেপণে স্থানীয় জনসাধারণ ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হয়।
এদিকে, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয় প্রাথমিক তদন্ত শেষে ২৭ এপ্রিল (রোববার) উপ-সহকারী পরিচালক বাসেদ আলী বাদী হয়ে দুটি মামলা দায়ের করেন।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ফ্রেন্ডস কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী শহীদুর রহমান খান জানান, তিনি হার্টের রোগী। চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়ে টাকার অভাবে পুরো চিকিৎসা না করে ফিরে আসেন। পরে উপজেলা প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমানের কাছে অনুনয়-বিনয় করে কাজের পুরো টাকা উত্তোলন করে চিকিৎসার জন্য ভারতে যান। এজন্য কাজটি যথাসময়ে শেষ করতে পারেন নাই। এখন মোটামুটি সুস্থ এবং নির্বাহী প্রকৌশলীর চিঠি ও দুদকে মামলা হওয়ায় দ্রুত কাজটি সমাপ্ত করেছেন।
মেসার্স সৈয়দ মজিবর রহমানের স্বত্বাধিকারী সৈয়দ মজিবর রহমান গোপালপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের একজন নেতা। আওয়ামীলীগের শাসনামলেই তিনি পাওনাদারদের চাপে পালিয়ে পালিয়ে বেড়াতেন। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে তিনি পুরোপুরি আত্মগোপনে চলে গেছেন। কোনোভাবেই তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে তার প্রতিনিধি হিসেবে জনৈক আইয়ুব আলী গয়হাটা থেকে ভাড়রা রাস্তায় সিংজোড়া থেকে নাটোরভাঙা পর্যন্ত রাস্তার কাজটি সম্পন্ন করেছেন।
টাঙ্গাইল এলজিইডির সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী এবং বর্তমানে প্রধান কার্যালয়ের মনিটরিং ও মূল্যায়ন শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম জানান, যথাযথ নিয়ম মেনে কাজ দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো পেয়েছিল। কাজ শুরু করে তারা নানা কারণ দেখিয়ে সময় বাড়িয়ে নেয়। তারপরও অজ্ঞাত কারণে কাজ দুটি তারা শেষ করেনি। এজন্য একাধিকবার তাদেরকে নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। তৎসময়ে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তারা কাজ দুটি সমাপ্ত করেন নাই বলে তিনি মনে করেন।
টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জানান, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সড়ক দুটি নির্মাণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়। সর্বশেষ চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়ার পর তারা নির্মাণ কাজ শুরু করে এবং দুদকে মামলা হওয়ার পর কাজ সমাপ্ত করেছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর