প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৮ মে, ২০২৫, ১২:২৫ AM

রকেট পাঠানো যেন তাঁর নিত্যদিনের কাজ। টেসলা আর স্পেসএক্সের মালিক ইলন মাস্ক একের পর এক রকেট ছুঁড়ছেন মহাকাশের দিকে। কিন্তু যেটা শুনলে অনেকেই চোখ কপালে তুলবেন—এই বিলিয়ন ডলারের মালিক অনেক সময় সরকারকে এক টাকাও ট্যাক্স দেন না!
২০২১ সালে ProPublica নামের এক অনুসন্ধানমূলক সংস্থা জানায়, ২০১৮ সালে ইলন মাস্ক যুক্তরাষ্ট্রে শূন্য ডলার ফেডারেল ইনকাম ট্যাক্স দিয়েছেন। শুনে অবাক? ভাবছেন, “৩০০ বিলিয়ন ডলারের মালিক হয়ে কীভাবে ট্যাক্স না দিয়ে পার পেয়ে যান?”
এর উত্তর লুকিয়ে আছে আমেরিকার ট্যাক্স ব্যবস্থার কাঠামোয়।
ইলনের ৯৯% সম্পদ ব্যাংকে গচ্ছিত নয়, বরং তা বাঁধা আছে টেসলা আর স্পেসএক্সের শেয়ারে। আর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ম অনুসারে—যতক্ষণ না কেউ সেই শেয়ার বিক্রি করছেন, ততক্ষণ তিনি কেবল কাগজে ধনী। অর্থাৎ, ট্যাক্সযোগ্য কোনো "বাস্তব" আয় নেই। তাই কর দিতে হয় না।
তাহলে ইলন নিজের খরচ চালান কীভাবে?
উত্তর: লোন! মাস্ক তাঁর শেয়ারের বিপরীতে ব্যাংক থেকে বিশাল অংকের ঋণ নেন। ধরুন, ৫০০ মিলিয়ন ডলারের মতো। এই লোনে ট্যাক্স লাগে না, কারণ এটা ইনকাম নয়।
এছাড়া, ধনীরা বছরে কয়েকশো মিলিয়ন ডলার দান করেন, ব্যবসায়িক ক্ষতি দেখান, এবং স্টক-ভিত্তিক বেতন নেন—এসব মিলিয়ে তাঁরা নিজেদের ট্যাক্সযোগ্য আয় এতটাই কমিয়ে আনেন, যেখানে ট্যাক্সের হার প্রায় শূন্যের কোটায় পৌঁছে যায়।
এটা কি বেআইনি?
না, একেবারেই না। ইলন মাস্ক কোনো ট্যাক্স ফাঁকি দিচ্ছেন না। তিনি কেবল আইন ও নিয়মের ফাঁকফোকরগুলো দুর্দান্তভাবে কাজে লাগাচ্ছেন।
আর এ কারণেই আজ “Tax the Rich”—এই স্লোগানটা এত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাপারটা যতই অন্যায় মনে হোক, আইনের চোখে এটা পুরোপুরি বৈধ।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর