প্রকাশ: সোমবার, ৫ মে, ২০২৫, ১১:৩০ পিএম

টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হাদিরা ইউনিয়নের ৫ গ্রামের ২৩ জন পাগলা কুকুরে কামড়ে আহত হয়েছেন। সোমবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
সাবেক ইউপি সদস্য সোলায়মান হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রথমে গনিপুর গ্রামে ৫ জনকে কামড়ায় পাগলা কুকুর। পরে মাহমুদপুর, ভারারীয়া ও হাউলভাঙ্গা গ্রামের দুই শিশুসহ ৬ জনকে কামড়ায়।
এলাকাবাসী ধাওয়া দিলে কুকুরটি চাতুটিয়া ও হরিদেববাড়ী গ্রামে প্রবেশ করে আরো ১২ জনকে কামড়ায়। চাতুুটিয়া গ্রামের চাল বিক্রেতা মজিবর রহমান জানান, বাড়িতে ঢুকে তার স্ত্রী নাজমা বেগমকে কামড়িয়ে আহত করে।
কুকুরের কামড়ে আহতদের গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে জলাতঙ্কের কোনো ভ্যাকসিন নেই। বাইরের দোকান থেকে ভ্যাকসিন কেনার পরামর্শ দেন তিনি।
বাজারের ফার্মেসী গুলোতে প্রতি ভ্যাকসিনের দাম ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা। পাঁচ ডোজ দিতে খরচ পড়ে ১৮০০ থেকে ২৫০০ টাকা। যাদের কুকুরের কামড়িয়েছে তারা অধিকাংশই শ্রমজীবী মানুষ । এতো টাকা খরচ করে ভ্যাকসিন দেয়ার সামর্থ তাদের নেই বলে তারা দাবি করেছেন।
গনিপুর গ্রামের মাদ্রাসা শিক্ষক রমজান আলী জানান, ভ্যাকসিন কেনার সামর্থ যাদের নেই তারা কবিরাজের ঝাঁড়ফুক ও ওষুধের উপর নির্ভর করছে। গোপালপুর উপজেলা কেমিষ্ট এন্ড ড্রাগিষ্ট সমিতির সভাপতি লুৎফুল কবীর জানান, দুই ধরনের জলাতঙ্কের ওষুধ ফার্মেসীতে রয়েছে। কিন্তু গরীব রোগীরা দামি ভ্যাকসিন দেয়ার সামর্থ্য রাখেন না।
গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. খায়রুল ইসলাম জানান, সারা দেশে জলাতঙ্ক রোগের ভ্যাকসিনের সংকট চলছে। উপজেলা হাসপাতালে ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয় না। রোগী এলে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার আলমগীর হোসেন জানান, চাহিদার তুলনায় কম ভ্যাকসিন পান তারা। সংকট লেগেই থাকে। গোপালপুর হাসপাতাল থেকে রোগী সিফট করলে ভ্যাকসিন দেয়া হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর