
আজ ৫ মে থেকে দেশের বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে উঠছে সাতক্ষীরার রসালো আম। প্রথম ধাপে বাজারে এসেছে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ, বোম্বাই ও গোলাপখাসসহ স্থানীয় জাতের আম।
আজ সোমবার (৫ মে) সকাল সাড়ে দশটায় সাতক্ষীরা ফিংড়ী ইউনিয়নের বিল্লাল হোসেনের আম বাগান থেকে আম পাড়ার মধ্য দিয়ে সাতক্ষীরা জেলায় আম সংগ্রহের উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদ।
জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে সকাল থেকেই পাইকাররা আম সংগ্রহ শুরু করেছেন। বাজারে চাহিদা ও দাম- দুটোই ভালো বলে জানিয়েছেন স্থানীয় চাষিরা।
জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদ বলেন, ‘সাতক্ষীরায় প্রথম আম পাড়ার মৌসুম শুরু হয়। সারা দেশের মধ্যে আম সংগ্রহ কার্যক্রমের শুভ সূচনা এখান থেকেই হয়ে থাকে। আজ আমরা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে আম পাড়ার উদ্বোধন করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশেষ করে সাতক্ষীরার হিমসাগর আম দেশব্যাপী সুপরিচিত। আমরা উদ্যোগ নিয়েছি, যাতে এই অঞ্চলের আম যথাযথভাবে উৎপাদিত ও বাজারজাত হয়।’
প্রথম ধাপে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ, বোম্বাই ও গোলাপখাসসহ স্থানীয় জাতের আম বাজারে এসেছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে সকাল থেকেই পাইকাররা আম সংগ্রহ শুরু করেছেন। স্থানীয় চাষিরা জানিয়েছেন, এ বছর বাজারে আমের চাহিদা এবং দাম- দুটোই আশাব্যঞ্জক।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনির হোসেন বলেন, ‘সাতক্ষীরা ভৌগোলিকভাবে উপকূলীয় জেলা হওয়ায় এখানকার আবহাওয়া এবং মাটি আম চাষের জন্য অনুকূল। সেই কারণে এখানকার আম সুস্বাদু এবং সুমিষ্ট হয়। দেশের বাজারে সবচেয়ে আগে এখানকার আমই পাকে, ফলে এর চাহিদাও বেশি।’
তিনি জানান, এ বছর সাতক্ষীরায় প্রায় ৪০০ কোটি টাকার আম বিক্রি ও রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কেমিক্যাল বা ক্ষতিকর পদার্থ ব্যবহার করে আম পাকানো রোধে প্রশাসন রয়েছে কঠোর অবস্থানে।
আম চাষে বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘আম বাজার বলতে এই সিন্ডিকেট প্রশাসনের কাছে একটাই দাবি সিন্ডিকেটটা যদি ভাঙতে পারে আমাদের মতন চাষী সঠিকভাবে ব্যবসা করে বাসায় আসতে পারবো, আমাদের একটাই দাবি বাজারের যেন সিন্ডিকেট না থাকে।’
আর এক চাষী রাহাত রাজা বলেন, ‘সাতক্ষীরা প্রতিবছরের মত এ বছরেও ভালো ফলন পেয়েছি আমার বাগানে তবে এই আমটা যখন আমি বাজারে বিক্রি করতে নিয়ে যাই, আমি যদি বাজারের মধ্যে ঢুকি তাহরে আর বের হতে পারি না, যদি মনে হয় আমটার আমি দাম পাচ্ছি না আজকে বেচবো না, তারপরেও আমার বেরোনোর সুযোগ নাই বাজারে রাস্তা সংকীর্ণ ওখানে যে সিন্ডিকেট একটা মাত্র বাজারে এর উপর নির্ভর করতে আমাদের সাতক্ষীরা আম চাষীদের আমরা চাই কয়েকটি ভ্রাম্যমান বাজার হোক।’
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সাল থেকে সাতক্ষীরার আম ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। হিমসাগর ও আম্রপালি জাতের আমের রয়েছে প্রচুর চাহিদা।
সাতক্ষীরার সুস্বাদু আম এখন শুধু জেলার গর্ব নয়, দেশের অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম