প্রকাশ: শনিবার, ৩ মে, ২০২৫, ৯:৩৬ AM

দক্ষিণ এশিয়ার দুই চিরবৈরী পারমাণবিক শক্তিধর দেশ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ফের বিপজ্জনক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একদিকে জম্মু ও কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর প্রাণঘাতী জঙ্গি হামলা, অন্যদিকে সিন্ধু নদের পানিপ্রবাহ নিয়ে সৃষ্ট দ্বন্দ্ব পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহম্মদ আসিফ খোলাখুলি হুমকি দিয়ে জানিয়েছেন, ভারত যদি সিন্ধু নদের পানিপ্রবাহ আটকে দিতে কোনো বাঁধ নির্মাণ করে, তাহলে পাকিস্তান সরাসরি সামরিক হামলা চালাবে এবং সেই স্থাপনা ধ্বংস করে দেবে।
শুক্রবার পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের ‘নয়া পাকিস্তান’ টেলিভিশন প্রোগ্রামে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাজা আসিফ। সেখানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “শুধু বন্দুকের গুলি বা কামানের গোলা ছুড়লেই আগ্রাসন হয় না। বহুভাবে আগ্রাসন চালানো যায়। যেমন সিন্ধু নদের পানিপ্রবাহ বন্ধ করে দেওয়া বা পানিপ্রবাহকে ভিন্নপথে চালিত করাও একপ্রকার আগ্রাসন। কারণ এর ফলে ক্ষুধা ও তৃষ্ণার কারণে মৃত্যু হবে লাখ লাখ মানুষের।”
“তাই সিন্ধু নদের পানিপ্রবাহ আটকাতে যদি তারা (নয়াদিল্লি) বাঁধ বা এই জাতীয় স্থাপনা নির্মাণ শুরু করে— সেক্ষেত্রে নিশ্চিতভাবেই আমরা আঘাত করব এবং সেই স্থাপনা ধ্বংস করব।”
“তবে আপাতত আমরা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে বিষয়টি (সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি) নিয়ে আলোচনা করছি এবং নিবিড়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।”
গত ২২ এপ্রিল, মঙ্গলবার ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের পেহেলগাঁও জেলার বৈসরণ তৃণভূমিতে ভয়াবহ এক সন্ত্রাসী হামলা ঘটে। কাশ্মিরভিত্তিক লস্কর-ই তৈয়বার সহযোগী সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’-এর বন্দুকধারীরা স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র নিয়ে পর্যটকদের ওপর গুলি চালায়, এতে ২৬ জন পুরুষ নিহত হন এবং আরও কয়েকজন আহত হন। ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার পর এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভারত সরাসরি পাকিস্তানকে এই হামলার জন্য দায়ী করে। জবাবে নয়াদিল্লি সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করে, পাকিস্তানি কূটনীতিকদের দেশে ফেরত পাঠায় এবং ভারতে অবস্থানরত পাকিস্তানিদের ভিসা বাতিলসহ একাধিক কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
এদিকে পেহেলগামের হামলার সঙ্গে নিজেদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করে ইসলামাবাদ। তবে নয়াদিল্লির শাস্তিমূলক পদক্ষেপের পাল্টা জবাব হিসেবে ভারতের জন্য নিজেদের স্থল ও আকাশসীমা বন্ধ, পাকিস্তানে অবস্থানরত ভারতীয়দের ভিসা বাতিল, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য স্থগিতসহ একাধিক পদক্ষেপ নেয় পাকিস্তানও।
এ হামলাকে ঘরে গত ১১ দিন ধরে তীব্র উত্তেজনা শুরু হয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দুই চিরবৈরী প্রতিবেশী দেশেল মধ্যে। গত মঙ্গলবার ভারতের শীর্ষ সেনা ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাতের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই বৈঠকে ভারতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীকে পাকিস্তান হামলার জন্য সবুজ সংকেত তিনি দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
সূত্র : জিও নিউজ
স্বদেশ প্রতিদিন/কেএইচ