
কৃষিতে আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহার হওয়ায় সাশ্রয়ী হয়েছে কৃষকের শ্রম আর অর্থ। কৃষিতে আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহার বাড়তে থাকায় কৃষকরা লাভবান হলেও অপরদিকে কর্মহীন হয়ে পড়ছেন সনাতন পদ্ধতিতে শ্রম বিক্রি করা শ্রমিকরা। আধুনিক প্রযুক্তি ও আধুনিক যান্ত্রের কারণে কর্মহীন হয়ে পরছেন সাধারন খেটে খাওয়া কৃষকরা। ফলে তাদের জীবনযাপন হয়ে পরেছে দুর্বিষহ।
কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলা কৃষি অফিসার আকলিমা বেগম বলেন, ‘ফসলের উৎপাদন খরচ কমাতে কৃষকরা এখন আধুনিক যন্ত্রের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছেন।’
জোয়ানশাহী সরেজমিনে হাওরে গিয়ে দেখা যায়, বেশির ভাগ জমির মালিক তাদের ফসল কাটাচ্ছেন হারভেষ্টার মেশিন দিয়ে। ফলে সেখানে শ্রমিকদের দিয়ে ফসল কাটানো সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় অনেক কম।
জমির মালিকদের সাথে কথা হলে তারা জানান, হারভেষ্টার দিয়ে প্রতি বিঘা জমির ধান কাটতে লাগছে মাত্র ৪৫ থেকে ৫০ মিনিট। বিঘা প্রতি খরচ নিচ্ছে ২৫ শ থেকে ৩ হাজার টাকা। মেশিনে ধান কেটে বস্তায় ভরে গাড়িতে করে একবারে মালিকের বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছে।
প্রযুক্তি ব্যবহারের সুবিধার কথা উল্লেখ করে তার জানান, আধুনিক যান্ত্র ব্যবহারে কৃষকদের ধান কাটা, মাড়াই করা এর পর তা মাথায় বহন করা এসবের দরকার হচ্ছে না।
সনাতন পদ্ধতিতে ফসল কাটার কথা তুলে ধরে জমির মালিকরা জানান, এক বিঘা জমির ধান কাটতে প্রচুর সময় লাগে, ফসল কাটার পরে আবার তা বহন ও মারাই করা এর পর তা বস্তায় সংরক্ষণ করা এই কাজ গুলো বারতি করতে হয়। আর এই কাজ করার জন্য ৬ থেকে ৭ জন শ্রমিকের সারা দিন। এই কাজের জন্য মজুরি দিতে হতো ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা। চাষাবাদে এখন যান্ত্রিক ব্যবহারে সময় আর অর্থ দুটোতেই সাশ্রয়ী হওয়ায় স্বস্তি অনুভব করছেন ফসল চাষীরা।
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের জোয়ানশাহী হাওরে কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন বোরো ধান কাটায়। বর্ষার পানি ও বৈরী আবহাওয়া না থাকায় কৃষকরা হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটছেন। কৃষকদের অভিযোগ মেশিন মালিকরা সরকার ঘোষিত নির্ধারিত চার্জের চেয়ে কিছু টাকা বেশি নিচ্ছে। পর্যাপ্ত মেশিন না থাকায় এখনো অনেক কৃষক ধান কাটা ও মাড়াইয়ে শ্রমিকদের উপরই নির্ভর রয়েছেন। ফসল চাষীদের দাবি সামনের বছরে যেন কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে হাওরে ধান কাটার মৌসুমে পর্যাপ্ত হারভেষ্টার মেশিনের ব্যবস্থা করেন। আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে কৃষিতে উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের প্রতি সরকার সহযোগিতার হাত বাড়াবে এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দ ফসল চাষীদের।
কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘হারভেষ্টার দিয়ে ধান কাটতে পেরে অনেকটাই দুশ্চিন্তা মুক্ত হতে পেরেছি। শ্রমিকের তুলনায় মেশিনে খরচ অনেক কম, তাছাড়া সময় তেমন লাগেনা। বৈশাখের মাঝঅমাজি হয়ে গেছে। কখন জানি আবার ঝড় তুফান শুরু হয় তাহলে পাকা ধানগুলো নষ্ট হয়ে যাবে। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবো।’
কৃষক আব্দুর রহমান বলেন, ‘আমার জমির ধান কাটারও সময় হয়ে গেছে আরো আগেই। মেশিন পাচ্ছি না বলে ধান কাটতে পারছি না। আর শ্রমিকদের দিয়ে ধান কাটলে পোষায় না। রোপণ থেকে শুরু করে কর্তন পর্যন্ত অনেক টাকা খরচ হয়। তবু চাষাবাদ করছি বছরের খাবারটা অন্ত চলে যাবে। তা ছাড়া খর দিয়ে জ্বালানি আর গরুর খাবার চলে যায়।’
ভৈরব উপজেলা কৃষি অফিসার আকলিমা বেগম বলেন, ‘ভৈরবে এ বছর প্রায় ৬ হাজার ৯শ ১০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান উৎপাদন হয়েছে। এ বছর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩০ হাজার ৮শ ৫৭ মেট্রিক টন যার লক্ষ্য মাত্র ছাড়িয়েছে। আবহাওয়া অনুকলে থাকায় জোয়ানশাহী হাওর সহ বিভিন্ন এলাকায় মিলিয়ে ৩৮ টি হারভেস্টার মেশিনের মাধ্যমে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ চলছে। আমা করছি, আবহাওয়া ভালো থাকলে আগামী মে মাসের ১০ তারিখের মধ্যে হাওরের ধান কাটা সম্পূর্ণভাবে শেষ করতে পারবেন কৃষকরা। এ ছাড়াও অধিকাংশ ফসল উৎপাদনে আধুনিক যন্ত্রে ব্যবহার বাড়াতে কৃষকদের উৎসাহিত করছেন কৃষি বিভাগ।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম