প্রকাশ: রবিবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৫, ১:১৫ পিএম আপডেট: ২৭.০৪.২০২৫ ১:১৯ PM

ঢাকায় পুলিশের গুলিতে শহীদ হওয়া পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার সন্তান জসিম উদ্দিন হাওলাদারের কন্যা, কলেজছাত্রী লামিয়া আক্তার (১৭) বাবার কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হচ্ছেন। রোববার (২৭ এপ্রিল) বিকেল চারটার দিকে পটুয়াখালীর পাংগাশিয়া ইউনিয়নে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হবে। এরই মধ্যে কবর খোঁড়ার কাজ শেষের পথে, মরদেহ ঢাকা থেকে নিয়ে আসা হচ্ছে।
লামিয়ার জানাজায় অংশ নিতে পটুয়াখালী আসছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। জেলা বিএনপির নেতা ও পটুয়াখালী জেলা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটন জানান, রিজভী আহমেদ ইতোমধ্যে বরিশালে পৌঁছেছেন এবং লামিয়ার মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে জানাজায় অংশ নেবেন।
আরো পড়ুন-
শনিবার (২৬ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শেখেরটেক এলাকায় একটি ভাড়া বাসা থেকে লামিয়ার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ মার্চ পটুয়াখালীর নিজ বাড়ি থেকে নানা বাড়ি যাওয়ার পথে লামিয়া সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন। এরপর সাহসিকতার সঙ্গে তিনি নিজেই দুজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং অভিযুক্ত শাকিব ও সিফাতকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।
শহীদ জসিম উদ্দিনের চাচাতো ভাই মো. কালাম হাওলাদার বলেন, "লামিয়া অত্যন্ত সাহসী মেয়ে ছিল। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সে লড়াই করেছিল। কিন্তু বিচারহীনতার ভয়, সমাজের অবজ্ঞা ও মানসিক চাপে সে ভেঙে পড়ে। আমরা তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করি এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করি।"
এ বিষয়ে দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জাকির হোসেন জানান, "সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লামিয়ার ময়নাতদন্ত শেষ হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।"
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৯ জুলাই ঢাকার মোহাম্মদপুরে পুলিশের গুলিতে আহত হওয়ার পর ১০ দিন চিকিৎসাধীন থেকে শহীদ হন জসিম উদ্দিন হাওলাদার।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর