প্রকাশ: শনিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৫, ৯:৩০ পিএম আপডেট: ২৬.০৪.২০২৫ ১০:০৪ PM

আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেছেন ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল কাশেস মিয়া। শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়টির বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যানের কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন।
এদিকে একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানসহ ১০জন শিক্ষক পদত্যাগ করেছেন। তবে বিষয়টি মানতে পারছেন না শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, তারা শুধুমাত্র ভিসি এবং সিএসই বিভাগের প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেছিলেন। বাকিদের পদত্যাগকে তারা অনাকাঙ্ক্ষিত ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে মনে করছেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্ণধাররা জোরপূর্বক অন্য বিভাগের
শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের পদত্যাগ করিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, এতে করে
বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় সংকট সৃষ্টি হবে এবং এর দায় শিক্ষার্থীদের ওপর
বর্তাবে। ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও ক্যারিয়ারে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
শিক্ষার্থীরা
আরও দাবি করছেন, পদত্যাগপত্রগুলো সাদা কাগজে লেখা হয়েছে এবং এখনো কোনো
আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা কপি শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছেনি। তারা সাফ জানিয়ে
দিয়েছেন— অফিসিয়াল পদত্যাগপত্র হাতে না পাওয়া পর্যন্ত তারা ক্যাম্পাস ছেড়ে
যাবেন না এবং তাদের অবস্থান কর্মসূচি চলবে।

এদিকে আন্দোলনের সূচনা
ঘটে সিএসই বিভাগের এক শিক্ষার্থীর বাবার মৃত্যু নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়
কর্তৃপক্ষের অসংবেদনশীল আচরণের প্রতিবাদ থেকে। যদিও শিক্ষার্থীরা বলছেন,
এটি মূলত সারা বছর ধরে জমে থাকা অসন্তোষ ও নানা অভিযোগের প্রতিফলন।
দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীরা একাডেমিক অনিয়ম, প্রশাসনিক অব্যবস্থা এবং
অসন্তোষজনক ব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ ছিলেন। বাবার মৃত্যুর ঘটনার
মাধ্যমে সেই ক্ষোভ বড় পরিসরে প্রকাশ পেয়েছে মাত্র।
বর্তমানে
ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের
স্বচ্ছ পদক্ষেপ ও দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা
দিয়েছেন।
আন্দোলনের সূচনার বিষয়ে জানা যায়, সিএসই বিভাগের এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, তার বাবা মৃত্যুবরণ করায় তিনি নির্ধারিত সময়ে মিডটার্ম পরীক্ষা দিতে পারেননি। পরবর্তীতে বিষয়টি লিখিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে, কর্তৃপক্ষ তার কাছ থেকে বাবার মৃত্যুর সনদপত্র জমা দিতে বলেন। শিক্ষার্থী নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী মৃত্যুসনদ জমা দিলেও, পুনরায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য তাকে অতিরিক্ত ফি পরিশোধের কথা জানানো হয়।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওই শিক্ষার্থী ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। পোস্টটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পরপরই ক্যাম্পাসজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর