
পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মীরের প্রধানমন্ত্রী চৌধুরী আনোয়ারুল হক ভারতকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘‘যদি ভারত পাকিস্তানের সীমান্তে কোনো আগ্রাসন চালায়, তবে এর চূড়ান্ত জবাব দেওয়া হবে।’’
বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) আজাদ কাশ্মীরের আইনসভায় দেওয়া এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ারুল হক বলেন, ‘‘ভারতের সাহস নেই পাকিস্তানের সীমান্ত লঙ্ঘন করার। তবে যদি তারা এটি করে, তাহলে পাকিস্তান শক্ত প্রতিরোধে মুখোমুখি হবে।’’
এ সময়, ভারতের কূটনৈতিক নীতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘‘ভারতের কূটনৈতিক আচরণ চাণক্য নীতি— অর্থাৎ, কূটনীতির আবরণে ছুরি মারার মতো।’’ তিনি ভারতের সাম্প্রতিক পেহেলগাঁও হামলা নিয়ে অভিযোগ করেন এবং বলেন, ‘‘ভারত যে দাবি করছে তা ভুয়া, ইতোমধ্যে এটি ধরা পড়েছে।’’
প্রধানমন্ত্রী আনোয়ারুল হক আরও শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘‘ভারত কোনো তৃতীয় পক্ষকে ব্যবহার করে আজাদ কাশ্মীরকে অস্থিতিশীল করতে চাইতে পারে।’’ তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘‘যদি ভারত এমন কিছু করার চেষ্টা করে, তাহলে তাকে উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।’’
আজাদ কাশ্মীরের প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ভারত গত এক বছর ধরে ‘‘পানি আগ্রাসন’’ চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি জানান, ‘‘ভারত পুঁছ ও নীলম নদীর প্রবাহ ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো কাজ শুরু করেছে, যা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ।’’
আনোয়ারুল হক মোদি সরকারের বিরুদ্ধে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘‘মোদি সরকারের সন্ত্রাসবাদী চেহারা এখন বিশ্ব জানে। কানাডা থেকে কাশ্মীর পর্যন্ত, মোদি সরকার রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ হিসেবে সন্ত্রাসকে বেছে নিয়েছে, এবং বিশ্বের অধিকাংশ দেশ আজ তা বুঝে ফেলেছে।’’
পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘‘আজাদ কাশ্মীরের পতাকার পেছনে শক্তি রয়েছে পাকিস্তান। আমরা যে স্বাধীনতা উপভোগ করি, তা ভারত-অধিকৃত কাশ্মীরে নেই।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘আমি আমাদের লাইন অব কন্ট্রোল (LoC) এর ওপারের ভাই-বোনদের পাশে আছি।’’
আজাদ কাশ্মীরের প্রধানমন্ত্রী আনোয়ারুল হক বলেন, ‘‘যদি ভারত লাইন অব কন্ট্রোল লঙ্ঘন করে, তাহলে পাকিস্তান জাতিসংঘ সনদের আওতায় পাল্টা জবাব দেওয়ার অধিকার রাখে।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘পাকিস্তান একটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশ, এবং ভারতসহ অন্য কোনো দেশই আমাদের সীমান্ত লঙ্ঘনের সাহস করবে না। আমরা সব সময় প্রস্তুত।’’
আজাদ কাশ্মীরের প্রধানমন্ত্রী চৌধুরী আনোয়ারুল হকের এই বক্তব্য পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে। তার ভাষণে ভারতের সামরিক ও কূটনৈতিক নীতির কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে, আর পাকিস্তানের পাল্টা প্রতিরোধের প্রস্তুতির কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর