প্রকাশ: বুধবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৫, ৯:০৩ AM

এখন থেকে সঞ্চয়পত্র বন্ধক রেখে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার সুযোগ চালু করতে যাচ্ছে সরকার। আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে এ সুবিধা কার্যকর করার লক্ষ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে বলে জানিয়েছে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর।
বর্তমানে এফডিআর বা স্থায়ী আমানতের বিপরীতে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ দেয় ব্যাংকগুলো। একইভাবে, সঞ্চয়পত্র ইস্যুকারী ব্যাংক থেকেই এ ঋণ নেওয়া যাবে। সে ক্ষেত্রে সঞ্চয়পত্রকে জামানত হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তবে এ ঋণের সুদের হার নির্ধারণ করবে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর।
অধিদপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সঞ্চয় স্কিমগুলোকে আরও আকর্ষণীয় করতে এবং বাজারে লেনদেনযোগ্য উপকরণ বাড়ানোর অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের সভাপতিত্বে অর্থবিভাগে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে বন্ড মার্কেট উন্নয়ন এবং সম্পদ সিকিউরিটাইজেশন পদ্ধতির সম্ভাবনা নিয়েও কথা হয়।
বর্তমানে দেশে চার ধরনের সঞ্চয়পত্র চালু রয়েছে—পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র, পরিবার সঞ্চয়পত্র এবং পেনশনার সঞ্চয়পত্র। এছাড়া বাংলাদেশ প্রাইজ বন্ড, ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ড, ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড এবং ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ড নামেও চারটি বন্ড রয়েছে।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র বিক্রির পরিমাণ ছিল ৭৮ হাজার ৮৪৭ কোটি টাকা, যেখানে পরিশোধ হয়েছে ৯৯ হাজার ৯৭২ কোটি টাকা। ফলে নিট বিক্রি কমে দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ১২৪ কোটি টাকা। চলতি সময়ে সঞ্চয়পত্রের সর্বোচ্চ সুদের হার ১২ দশমিক ৪০ শতাংশ।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সঞ্চয়পত্র বন্ধক রেখে ঋণ নেওয়ার সুযোগ চালু হলে ঋণ বাজারে বৈচিত্র্য আসবে এবং সাধারণ মানুষের জন্য এটি হবে এক যুগান্তকারী সুবিধা। এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, "ঋণ বাজারে লেনদেনযোগ্য উপকরণের অভাব দীর্ঘদিনের সমস্যা। সঞ্চয়পত্র যদি জামানত হিসেবে ব্যবহার করা যায়, তাহলে বিনিয়োগকারীদের অর্থ আটকে থাকবে না, বরং প্রয়োজনে সহজেই অর্থ ধার নেওয়ার সুযোগ থাকবে।"
এখন দেখার বিষয়, সরকার কত দ্রুত এবং কীভাবে এই নীতিমালা বাস্তবায়নে অগ্রসর হয়।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর