প্রকাশ: রবিবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৫, ৮:২৯ AM

ফেনীর সোনাগাজীতে রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া ৪ লাখ টাকার সমপরিমাণ ডলার ও ইউরো এক গ্রীস প্রবাসীকে ফেরত দিয়েছেন মাদ্রাসার শিশু শিক্ষার্থী। গত শুক্রবার রাতে সোনাগাজী পৌরসভার সাবেক মেয়র জামাল উদ্দিন সেন্টুর উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীর বাবা আব্দুল আজিজ ও ভাই সাইফুর রহমান অপু গ্রীস প্রবাসী লোকমান হোসেনের হাতে ইউরো ডলারগুলো তুলে দেন।
এদিকে প্রবাসীর ২৫ শ ডলার, শতাধিক ইউরো, বাংলাদেশী টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র ফেরত দিয়ে প্রশংসায় ভাসছে সোনাগাজী ইসলামিয়া মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ইসতিয়াক রহমান।
গ্রীস প্রবাসী লোকমান হোসেন বলেন, 'আমি গত ৪ এপ্রিল একটি কাজে সোনাগাজী সদর ইউনিয়নের ভৈরব চৌধুরী বাজার গিয়েছি। কাজ শেষে ফেরার পর সোনাগাজী বাজারে আসার পর দেখি আমার মানি ব্যাগটি নেই। পরবর্তী সময়ে অনেক খোঁজাখুজি করে না পেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কার্ড থাকায় সোনাগাজী মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করি।
পরে হারানোর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক একাউন্ট ও একাধিক নিউজ পেইজে প্রচার করি। তারপর প্রায় ১০-১২দিন চলে যাওয়ার পর মালামাল ফেরত পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছি। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় আমার মোবাইল নাম্বারে কল আসে, রিসিভ করতেই মানি ব্যাগ পাওয়ার তথ্য জানিয়ে সেটি ফেরত দিতে মালিককে খুঁজছে বলে আমাকে অবহিত করে। মানিব্যাগটি আমার কিনা যাচাই করতে রাতেই তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করি। পরবর্তীতে দেখি আমার সকল টাকা ও জিনিসপত্র সব ঠিকই আছে।'
তিনি আরো বলেন, আমি এই শিশু শিক্ষার্থীর সততা দেখে অবাক হয়েছি, সে এবং তার পরিবার চাইলে কাউকে না জানিয়ে ডলার ও ইউরো রেখে দিতে পারত। কিন্তু তারা তা করেনি। মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ইশতিয়াক রহমান ও তার পরিবারকে ধন্যবাদ জানাই।
শিক্ষার্থী ইশতিয়াক রহমান বলেন, ঈদের তিন দিন (৫ই এপ্রিল) পর বাসা থেকে আম্মুর সাথে ঘুরতে বের হই। পৌরসভার খাদ্য গুদামের সামনে (সোনাগাজী-মুহুরী প্রজেক্ট সড়ক) ব্যাগটি পাই। পরবর্তীতে সেটি নিয়ে বাসায় রাখি। কার কাছে কিভাবে দেবো সেটি বুঝতে পারছিলাম না। পরে ঘরে রেখে আমি আব্বু আম্মু সহ চিকিৎসার কাজে ঢাকায় চলে যাই। সেখান থেকে ১৫ এপ্রিল এলাকায় ফিরে আসি। তখন আমার ভাইয়া কে বলি আমি ঘুরতে গেলে মানি ব্যাগটি পেয়েছি।
সাইফুর রহমান অপু বলেন, আমার ছোট ভাই মানি ব্যাগের কথা বললে আমি ফেসবুক একাউন্টে পোস্ট দিই। কিন্তু কেউ কোনো সাড়া দেয়নি৷ পরবর্তীতে স্থানীয় অনলাইন পেইজে হারানোর বিজ্ঞপ্তি দেখে কল দিলে মালিকের সন্ধান পাই। পরে সত্যতা যাচাইয়ের পর ফেরত দিই।
সাবেক মেয়র জামাল উদ্দিন সেন্টু বলেন, অনেকে আরো অল্প টাকা হলেও ফেরত দেয় না। সেখানে এতটাকা থাকার পরও ফেরত দেওয়া সত্যিই সৎ মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেএইচ