
বৈশাখ উদযাপনের কাজে অংশ নেয়ায় চারুকলা অনুষদের বিশিষ্ট অ্যালামনাই শিল্পী মানবেন্দ্র ঘোষের বাড়িতে আগুন দিয়েছিলো দুষ্কৃতকারীরা। আগুন দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মানববন্ধন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ।
বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলা ভাস্কর্যের সামনে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এর আগে এত সুন্দর শোভাযাত্রার আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। তবে এই শোভাযাত্রার আগে ফ্যাসিস্টের যে মুখাবৃত্তি তৈরি করা হয়েছিল তা পুড়িয়ে দেয় ফ্যাসিস্টের দোষররা। কিন্তু তারা তাদের কাজ সফল করতে পারে নি। চারুকলার উদ্যোগে মাত্র একদিনের মধ্যে পুনরায় তা তৈরি করে আনন্দ শোভাযাত্রায় প্রদর্শন করা হয়। তবে যারা এই ঘৃণ্য কাজ করেছে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিল্পীরা প্রতিবাদ করেছে শিল্পীর ভাষায়। কিন্তু যখন সে প্রতিবাদ করতে গিয়েছে তাকে থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। শিল্পী মানবেন্দ্র ঘোষের স্টুডিও পুরো পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। একজন শিল্পীর সারাজীবনের কর্ম পুড়িয়ে দিয়েছে দুষ্কৃতকারী।’
বক্তব্যে তিনি হুশিয়ারী দিয়ে বলেন, ‘তাদের কোন অপকর্ম রেহাই পাবে না। যে এই কাজে লিপ্ত থাকবে তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। সে শিক্ষক, শিক্ষার্থী বা যত বড় সেলিব্রিটি হোক না কেন তার অপকর্মে শাস্তি তাকে পেতে হবে।’
চারুকলা অনুষদের ডিন আজহারুল ইসলাম (চঞ্চল) বলেন, ‘আমরা বাংলা ১৪৩২ সনের প্রথম দিনকে খুব আনন্দের সাথে উদযাপন করেছি। কিন্তু একটা কুচক্রী মহল বিভিন্ন ঘটনা ঘটিয়ে সেটা বানচাল করতে চেয়েছিল। যার ফলাফল হিসেবে আমরা দেখেছি গত ১২ই এপ্রিল রাতে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার মোটিফ পুড়িয়ে দিয়েছিল এক দুর্বৃত্তকারী। তারা চেয়েছিল নববর্ষের আমেজ কে ধ্বংস করেতে। কিন্তু তারা সফল হয়নি। তবে আমরা দেখেছি গতকাল আমাদের একজন সহকর্মী শিল্পী মানবেন্দ্র ঘোষের বাড়িতে আগুন দিয়েছে। তার সারাজীবনের সকল কার্যক্রমকে পুড়িয়ে দিয়েছি। আমরা দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলতে চাই তারা যেন অতিদ্রুত জড়িতদের আইনের আওতায় আনেন। এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে জানাতে চাই যারা এই অপকর্মে জড়িত তাদের কঠোর আইনের আওতায় আনতে হবে।’
কলা অনুষদের ডিন সিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, ‘চারুকলা অনুষদের একজন শিল্পীর বাড়িতে যে আগুন দিল। আমরা বাঙালী জাতি আমাদের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান পালন করেছি। আমাদের চারুকলা অনুষদের কার্যক্রম ছিল এবছরে চোখে পড়ার মতো। তারা আনন্দ শোভাযাত্রা থেকে শুরু করে বিভিন্ন মোটিফকে সামনে নিয়ে এসেছিল। এছাড়াও এবছরের প্রতিপাদ্য ছিল নববর্ষের ঐক্যতান, ফ্যাসিবাদের অবসান। কেননা গত দেড় বছররে যে স্বৈরশাসনের অবসান হয়েছে কিন্তু আমরা দেখেছি, একদল এই নববর্ষকে বানচাল করতে চেয়েছিল। ফলে তারা ফ্যাসিস্টের মুখাকৃতি পুড়িয়েও দিয়েছিল। তবে, তাদের পরিকল্পনা সফর হয়নি। আমাদের চারুকলার শিক্ষক, শিক্ষার্থী মিলে সে মঠিফ তৈরি করে মাত্র একদিনের মধ্যে এবং কটোর পরিশ্রমের মধ্যদিয়ে সে মোটিফ বর্ষবরণে নিয়ে আসে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্যাসিবাদের দোষরসহ সারাদেশের দোষরদের ধ্বংস করতে হবে এবং তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে। কোন অবস্থাতে আর ফ্যাসিবাদের পুরর্বাসন হতে দেওয়া হবে না।’
জগন্নাহ হলের প্রোভোস্ট দেবাশীষ পাল বলেন, ‘শিল্পী মানবেন্দ্র ঘোষ ছিলেন একজন শিল্পী। তিনি তার শিল্প কর্মদিয়ে প্রতিবাদ করেছেন। তিনি বাঘের মোটিফ তৈরি করেছিলেন। কিন্তু খুব কষ্ট লাগে তখন, যখন কেউ প্রতিবাদে কাজে অগ্রসর হয় আবার সেই মানুষটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমরা দেখেছি তার বাসায় শুধুমাত্র আগুন দেওয়া হয় নি, তার পরিবারকে সমূলে নিশ্চিহ্ন করার জন্য রাতের আধারে আগুন দেয়া হয় এবং হত্যার চেষ্টা করা হয়।’
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ,
চারুকলা অনুষদের ডিন আজহারুল ইসলাম, কলা অনুষদের ডিন সিদ্দিকুর রহমাম খানসহ
আরও শিক্ষক।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম