প্রকাশ: সোমবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৫, ১১:৩৫ AM

ভারতের পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের আর্থিক তছরুপ মামলায় অভিযুক্ত মেহুল চোক্সীকে বেলজিয়ামে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক এই ব্যবসায়ী আপাতত বেলজিয়ামের জেলে রয়েছেন বলে ইকোনমিক টাইমস জানিয়েছে। ৬৫ বছরের পলাতক এই ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করার জন্য ভারত বেলজিয়ামের কাছে আবেদন জানিয়েছিল। ভারতের তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই বিষয়টি জানিয়েছে।
চোক্সীর বিরুদ্ধে পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের ১৩ হাজার ৮৫০ কোটি রুপি তছরুপের অভিযোগ রয়েছে। গত শনিবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে পিএনবি কেলেঙ্কারি নাম জড়ানোর পর ভারত ছেড়ে পালিয়ে যান চোক্সী। এরপর থাকতে শুরু করেন অ্যান্টিগা ও বারবুডায় এবং সেখানে নাগরিকত্বও পেয়ে যান।
অ্যান্টিগা ও বার্বুডা ক্যারিবীয় সাগরের পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত একটি স্বাধীন দ্বীপরাষ্ট্র।
এদিকে চোক্সীর আবেদনে সাড়া দিয়ে ২০২৩ সালে অ্যান্টিগা ও বারবুডায় বিচারবিভাগ জানিয়েছিল, তাকে ওই দেশ থেকে কোথাও নিয়ে যাওয়া যাবে না। ফলে সেখানে থাকাকালীন তাকে ভারতে ফেরানো এবং বিচারের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।
এরপর বেলজিয়ান স্ত্রীর সাহায্যে ২০২৩ সালের ১৫ নভেম্বর থেকে ‘এফ রেসিডেন্সি কার্ড’ জোগাড় করে বেলজিয়ামে বসবাস শুরু করেন চোক্সী।
এই কার্ডের মাধ্যমে অন্য কোনো দেশের নাগরিক বৈবাহিক সঙ্গীর সঙ্গে কিছু শর্তসাপেক্ষে বেলজিয়ামে থাকতে পারেন। তবে চোক্সী এখনও অ্যান্টিগা ও বারবুডার নাগরিক। অ্যান্টিগা ও বারবুডা থেকে বেলজিয়ামে চলে যাওয়ার পরে চোক্সীকে সেখান থেকে ফেরানো সম্ভব বলে মনে করছে ভারত। সিবিআই এবং এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি), উভয় সংস্থাই তাকে খুঁজছে। এখন সেই চেষ্টাই শুরু করেছে ভারতের সংস্থাগুলো।
তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় তদন্তকারী সংস্থাগুলো তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে পারেনি।
গত মাস চোক্সীকে ভারতে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করে নয়াদিল্লি। বেলজিয়াম সরকারের সঙ্গে সে বিষয়ে আলোচনাও শুরু হয়েছে। মুম্বইয়ের আদালতে চোক্সীর বিরুদ্ধে দুইটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। ২০১৮ সালের ২৩ মে এবং ২০২১ সালের ১৫ জুন মাসে চোক্সীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। সেই পরোয়ানাতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে চোক্সীকে। তবে আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জামিনের আবেদন জানাবেন চোক্সী।
সূত্র : আনন্দবাজার