পাগলা মসজিদের দানবাক্সে চিঠি: ড. ইউনূসকে ৫ বছর ক্ষমতায় চায় জনগণ

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ শুধু দানের অংকেই নয়, মানুষের ভালোবাসা, আশা আর অশ্রুতে ভেজা প্রার্থনার গল্পেও অনন্য এক নাম। এবারও তার ব্যতিক্রম হলো না। দানবাক্সে পাওয়া গেছে কয়েকটি চিরকুট।
এর একটিতে লেখা ছিল- ড. ইউনূস স্যারকে আরও ৫ বছর চায় সাধারণ জনগণ। আল্লাহ
তুমি সহজ করে দাও।
শনিবার (১২ এপ্রিল) সকালে মসজিদের ৯টি দানবাক্স ও ২টি ট্রাঙ্ক খোলা হয়। সকাল ৭টা থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে দান সংগ্রহ শুরু হয়। সেনাবাহিনী, পুলিশ, এপিবিএন ও আনসার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এইবার দানবাক্সগুলো থেকে পাওয়া গেছে ২৮ বস্তা টাকা। এর সঙ্গে ছিলো স্বর্ণালঙ্কার ও বিদেশি মুদ্রাও। গণনার কাজ চলে সারাদিন, আর টাকার চূড়ান্ত অঙ্ক জানা যাবে সন্ধ্যায়।
তবে টাকা-পয়সার চেয়েও বেশি আলোচনায় থাকে একটি জিনিস, আর তা হলো চিরকুট। প্রতিবারই অনেক দানদাতাই তাদের হৃদয়ের কথা লিখে দেন একটি ছোট কাগজে।
এইবার একটি চিরকুটে লেখা ছিল: ‘ড. ইউনূস স্যারকে আরও ৫ বছর চায় সাধারণ জনগণ। আল্লাহ তুমি সহজ করে দাও।’
আরেকটি চিরকুটে এক নারীর আবেগঘন প্রার্থনা পাওয়া যায়। সেখানে লেখা’ ‘আমার ভাইয়ারে পুরোপুরি সুস্থ কইরা দেও আল্লাহ... ওর শরীর থেকে এই রোগটারে সম্পূর্ণভাবে গায়েব কইরা দেও... আমার ভাইয়া যেন সিটিজেনশিপ পাইয়া যায় আল্লাহ... তোমার বিশ্বাসে এগুলো লিখছি, তুমি আমার দোয়া কবুল কইরো।’
টাকা গণনায় নিয়োজিত ছিলেন, জেলা প্রশাসনের ২৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ২৪৭ জন মাদ্রাসা শিক্ষার্থী, ১০ জন শিক্ষক, ১৪ জন সেনাসদস্য, ৩০ জন পুলিশ সদস্য, ১০ জন আনসার সদস্য, ৮০ জন ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারী।
পাগলা মসজিদের সঙ্গে জড়িয়ে আছে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস-এখানে দান করলে মনোবাসনা পূর্ণ হয়। এই বিশ্বাস শুধু মুসলিমদের নয়, বিভিন্ন ধর্মের মানুষও এখানে দান করে থাকেন।
টাকা-পয়সা তো আছেই, সেই সঙ্গে সোনা-রুপার গয়না, বিদেশি মুদ্রা, হাঁস-মুরগি, ফলমূল, মোমবাতি, ধর্মীয় বই-সবই দান করেন মানুষ।
প্রত্যাশা, প্রার্থনা আর পবিত্রতা
পাগলা মসজিদ যেন আর্থিক দানের চেয়ে অনেক বড়—এটা মানুষের না বলা কথা, নিরব কান্না, আশা আর বিশ্বাসের এক আশ্রয়। এসব চিরকুট যেন একেকটি হৃদয়ের দরজায় রাখা মিনতির টোকা।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম