
অফিসে কাজের ফাঁকে হঠাৎ শুরু হলো বুকে ব্যথা, সঙ্গে ঘাম, অস্থিরতা। সহকর্মীদের তৎপরতায় রোগী দ্রুত পৌঁছালেন হাসপাতালে। ইসিজি রিপোর্ট বলছে—বড় ধরনের হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। চিকিৎসকেরা বুঝলেন, হার্টের একটি বড় রক্তনালি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।
এমন পরিস্থিতিতে রোগীকে বাঁচাতে সবচেয়ে আধুনিক ও কার্যকর চিকিৎসাপদ্ধতি হলো প্রাইমারি পিসিআই। এতে জরুরি ভিত্তিতে অ্যানজিওগ্রাম করে ব্লক শনাক্ত করে সেই স্থানে স্টেন্ট বা রিং বসিয়ে রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক করা হয়।
দুটি রকমের হার্ট অ্যাটাক:
STEMI ও
NON-STEMI ইসিজির মাধ্যমে হার্ট অ্যাটাককে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়-
STEMI ও
NON-STEMI ।
STEMI হলো সবচেয়ে মারাত্মক ধরণ, যেখানে হার্টের একটি প্রধান রক্তনালি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে হার্টের মাংসপেশি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট বা হার্ট ফেইলিউরের ঝুঁকি থাকে।
অন্যদিকে
NON-STEM I কিছুটা কম ঝুঁকিপূর্ণ হলেও অবহেলা করলে পুনরায় হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা থাকে। এ ধরনের অবস্থাতেও দ্রুত অ্যানজিওগ্রামের মাধ্যমে ব্লক শনাক্ত করে চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
প্রাথমিক চিকিৎসা ও সময়ের গুরুত্ব:
STEMI অ্যাটাকের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসা হলো প্রাইমারি অ্যানজিওপ্লাস্টি। এতে ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত সফলতা পাওয়া যায় এবং হৃৎপিণ্ডের কার্যক্ষমতা বজায় রাখা সম্ভব হয়। তবে সব জায়গায় এই সুবিধা না থাকায়, জরুরি প্রয়োজনে ওষুধ দিয়ে ব্লক অপসারণের চেষ্টা করা হয়। এ ক্ষেত্রে ‘টেনেকটিপলেজ’ ও ‘স্ট্রেপটোকাইনেজ’ নামক ওষুধ ব্যবহার করা হয়। তবে ওষুধ প্রয়োগের ২ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অ্যানজিওগ্রাম করা বাধ্যতামূলক।
সচেতনতা ও দ্রুত সিদ্ধান্তই পারে জীবন বাঁচাতে:
ল্যাবএইড কার্ডিয়াক হাসপাতালের ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ও সিসিইউ ইনচার্জ সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. মাহবুবর রহমান জানান, হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে সময়ই জীবন। দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে সঠিক চিকিৎসা শুরু করা গেলে জীবন রক্ষা সম্ভব। কিন্তু আমাদের দেশে রোগী ও স্বজনদের সিদ্ধান্তহীনতা, আস্থার অভাব এবং চিকিৎসা সম্পর্কে অজ্ঞতা অনেক সময় মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনে।
তাঁর মতে, সময়মতো সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারলে হার্ট অ্যাটাকজনিত মৃত্যু এবং জটিলতা উল্লেখযোগ্য হারে কমানো সম্ভব। শহর বা গ্রামে—যেখানেই থাকুন না কেন, বুকে হঠাৎ ব্যথা শুরু হলে সময় নষ্ট না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যাওয়া উচিত।
হার্ট অ্যাটাক কোনো রোগ নয়, এটি একটি জরুরি অবস্থা। তাই সিদ্ধান্ত নিতে দেরি নয়, বরং দ্রুত সঠিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করাই জীবন বাঁচানোর মূল চাবিকাঠি।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম