
গাজা থেকে মুক্তি পাওয়া ইসরায়েলি নারী লিরি আলবাগ
গাজা থেকে মুক্তি পাওয়া ইসরায়েলি নারী লিরি আলবাগ বিস্ফোরক এক অভিযোগ তুলে জানিয়েছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ৭ অক্টোবরের হামলার জন্য দায়ী করার পর থেকেই নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির সমর্থকদের কাছ থেকে হুমকি ও অপমানজনক বার্তা পাচ্ছেন। ইসরায়েলি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন 'কান'র বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করেছে আনাদলু এজেন্সি।
'কান'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আলবাগ বলেন, “আপনারাই দায়ী, এবং আপনাদেরকেই এর সমাধান করতে হবে।” ওই মন্তব্যের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে তীব্র আক্রমণের শিকার হতে হয়েছে।
ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমি মন্তব্য, হুমকি ও অপমানজনক বার্তাগুলো পড়ছি। আমি ভয় পাচ্ছি না ওদের, কিন্তু আমরা কী হয়ে উঠেছি তা ভেবে আতঙ্কিত।’
তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে কষ্টদায়ক হলো—এই সামাজিক বিভক্তি, যা আমাদের শত্রুদের থেকেও ভয়ানক।’
প্রায় দুই মাস আগে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে বন্দী বিনিময় চুক্তির আওতায় গাজা থেকে মুক্তি পান আলবাগ। তবে সম্প্রতি গাজায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর নতুন হামলার পর সেই চুক্তি কার্যত বাতিল হয়ে গেছে। ১৮ মার্চ থেকে শুরু হওয়া নতুন হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১,৫০০ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৩,৭০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
গাজায় বর্বরোচিত হামলার ফলে জানুয়ারিতে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় চুক্তি স্থগিত হয়ে পড়ে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু হামলা আরও জোরদার করার ঘোষণা দেন।
অক্টোবর ২০২৩ থেকে ইসরায়েলি হামলায় গাজায় প্রাণ হারিয়েছেন ৫০,৮০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ইতোমধ্যে নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। পাশাপাশি ইসরায়েল আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার অভিযোগের মুখোমুখিও রয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আলবাগের বক্তব্য ইসরায়েলি সমাজে ক্রমবর্ধমান বিভাজন এবং যুদ্ধবিরোধী মনোভাবের ইঙ্গিত দেয়। সরকারের কঠোর অবস্থান এবং অভ্যন্তরীণ সমালোচনার মধ্য দিয়ে ইসরায়েল এখন গভীর রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকটের মুখে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর