
নতুন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিবন্ধন পেয়েছে।
বুধবার (৯ এপ্রিল) নির্বাচন ভবনে দলটির প্রেসিডেন্ট সুকৃতি কুমার মণ্ডলকে নিবন্ধন সনদ তুলে দেন ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
বিএমজেপির প্রেসিডেন্ট সুকৃতি কুমার মণ্ডল বলেছেন, ‘২০১৮ সালে নিবন্ধন পেতে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু বিশেষ কারণে সেবার নিবন্ধন পাইনি। আমরা বাছাইয়ের মধ্যে ছিলাম, তবে দুটো দলকে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছিল। তখন প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজকে কাঙ্ক্ষিত নিবন্ধন সনদ পেলাম, আজ আমার স্বপ্ন পূর্ণ হয়েছে। ৫৪ বছর বয়সে এসে আমরা রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছি। আমাদের ৩ কোটি মতো সংখ্যালঘু (মাইনরিটি) সম্প্রদায়ের মানুষ রয়েছে। এখন আমরা রাজনীতি করার অধিকার পেলাম। আমাদের সমর্থন ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত রয়েছে। আমাদের প্রতীক রকেট।’
বিএমজিপি ২০১৭ সালে আত্মপ্রকাশ করে। একাদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য তারা আবেদন করেছিল, কিন্তু বাছাই পর্বে সফল হতে পারেনি। পরে তারা আদালতে আবেদন করেন। ১১ ফেব্রুয়ারি, হাইকোর্টের আদেশে নির্বাচন কমিশনকে বিএমজেপির নিবন্ধন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এই সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর, নির্বাচন কমিশন আরো কয়েকটি দলের নিবন্ধন দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে এবি পার্টি, গণ অধিকার পরিষদ (জিওপি), মাহমুদুর রহমানের নাগরিক ঐক্য এবং গণসংহতি আন্দোলন।
এম এম নাসির উদ্দিন নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর আদালতের আদেশে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির পর দ্বিতীয় দল হিসেবে বিএমজেপি নিবন্ধন পেল। এর ফলে নিবন্ধিত দলের সংখ্যা বর্তমানে ৫০টি।
২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন নিবন্ধন প্রথা চালু করে। এখন পর্যন্ত ৫৫টি দল নিবন্ধন পেয়েছে, তবে পরবর্তীতে পাঁচটি দল (জামায়াতে ইসলামী, ফ্রিডম পার্টি, ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন, পিডিপি ও জাগপা) নিবন্ধন বাতিল হয়েছে।
এছাড়া, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য নতুন দল নিবন্ধনের জন্য নির্বাচন কমিশন গত মার্চে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে এবং ২০ এপ্রিলের মধ্যে আগ্রহীদের আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম