ওসির বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ করলেন গৃহবধূ, অতঃপর...
প্রকাশ: সোমবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৫, ১২:০৫ AM

ওসি ও এসআইসহ তিন জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ তুলে এক গৃহবধূ রাজবাড়ী আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। রবিবার (৬ এপ্রিল) রাজবাড়ীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বাদী হয়ে ওই গৃহবধূ মামলা করেন। বাদী রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার মাছপাড়া ইউনিয়নের লক্ষণদিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
মামলায় আসামি করা হয়েছে পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: সালাউদ্দিন, উপ পরিদর্শক (এসআই) হিমাদ্রি হাওলাদার ও সহযোগী আরিফ হোসেনকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাদী ওই গৃহবধূ ও তার স্বামী কলেজ ছাত্রী মাহি আক্তার অধরার (১৭) অপহরণ মামলার ৪ ও ৫ নং আসামী।পুলিশ গত বুধবার (২ এপ্রিল) রাতে স্থানীয় দুই নারীর সহযোগিতায় বাড়ি থেকে ওই বাদীকে গ্রেফতার করে। এসময় তার স্বামী পালিয়ে যায়। পরে সোমবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে ওই কলেজ পড়ুয়া ছাত্রীকে ফেরত দিলে পরিবারের জিম্মায় ওই বাদীকে দেওয়া হয়।
যদিও মামলার বাদী গৃহবধূ এজাহারে উল্লেখ করেন, পাংশা থানার ওসির নির্দেশে এসআই ও এক সহযোগী রাত ১১ টার দিকে ঘরের বিভিন্ন কক্ষে তল্লাশি করেন ও তার স্বামীকে খুঁজতে থাকেন। এক পর্যায়ে স্বামীকে না পেয়ে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, স্থানীয় লোকজন তাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে আনতে গেলে ২০ হাজার টাকা উৎকোচ গ্রহণসহ মোটা অংকের টাকা দাবি করা হয়।
এ বিষয়ে পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: সালাউদ্দিন বলেন, গত (২৫ মার্চ) পাংশা থানায় মোছা: মিনি খাতুন নামে এক গৃহবধূ তার মেয়েকে অপহরণের অভিযোগ তুলে মামলা দায়ের করেন। অভিযোগকারী (পুলিশের বিরুদ্ধে মামলার বাদী) ওই মামলার ৫ নং আসামি। এছাড়া ওই কলেজছাত্রীকে অপহরণকারী ব্যাক্তি এই গৃহবধূর ভাতিজা। গত রবিবার ওই গৃহবধূকে তার বাড়ি থেকে স্থানীয় দুই নারীর সহযোগিতা থানায় নিয়ে আসা হয়। পরদিন দুপুরে অপহরণ হওয়া কলেজ ছাত্রীকে ফেরত দিলে পুলিশ সুপারের নির্দেশে তাকে তার পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, একটি স্বার্থন্বেষী মহল পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে মিথ্যা বানোয়াট ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলেছে।
রাজবাড়ীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আইনজীবী জাহিদ উদ্দিন মোল্লা বলেন, ট্রাইব্যুনালের বিচারক গৃহবধূর করা মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ফরিদপুর কার্যালয়ের পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর