
ইয়েমেনের হোদেইদাহ অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় চারজন নিহত হয়েছে। এটি হুথি বাহিনীর বিরুদ্ধে সর্বশেষ হামলা, কারণ আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী এবং আরও যুদ্ধবিমান মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে। খবর আলজাজিরা।
হুথি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মুখপাত্র আনিস আলাসবাহি বলেছেন, ‘মঙ্গলবার রাতে মার্কিন হামলায় তিনজন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে তবে নিহতের সংখ্যা প্রাথমিক।
যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদিন ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যা ওই অঞ্চলটিতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও সামরিক নৌবাহিনীর ওপর হুথিদের হুমকি বন্ধ করার জন্য পরিচালিত হচ্ছে।’
আলাসবাহি বলেন, ‘ মঙ্গলবার হোদেইদাহ প্রদেশের আল-মানসুরিয়াহ জেলার পানি ব্যবস্থাপনা ভবনকে লক্ষ্য করে হমলা চালায়। এতে আমেরিকান তিনজন নিহত এবং দুজন আহত হন, যাদের বেশিরভাগই হলেন কর্মচারী।’
হুথি-অনুমোদিত আল মাসিরাহ টিভি পরে জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা আরো একজন বেড়ে চারজনে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে যে উত্তর-পশ্চিমে হাজ্জাহ অঞ্চল এবং উত্তরে সাদায়ও আক্রমণ করা হয়েছে।
আল মাসিরাহ টিভি সাদা এবং সানা অঞ্চলে একাধিক মার্কিন হামলার খবর প্রকাশ করার পর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই হামলা চালিয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করেনি। গত সোমবার রাতের হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনও খবর পাওয়া যায়নি।
১৫ মার্চ থেকে ওয়াশিংটন হুথি বাহিনীর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। এর পর থেকে ইয়েমেনে ৬০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গ করে। যার প্রতিক্রিয়ায় হিসেবে ইয়েমেনি সশস্ত্র গোষ্ঠীটি লোহিত সাগরে ইসরায়েলি-সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলিতে নতুন করে আক্রমণ চালানোর হুমকি দেয়।
পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে, আগ্রাসন প্রতিহত করা এবং মুক্ত বাণিজ্যের পথ রক্ষা করার জন্য কার্ল ভিনসন রণতরী হ্যারি এস. ট্রুম্যানের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তি যুদ্ধবিমান ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামূলক আকাশ সমর্থনকে আরও শক্তিশালী করবে।
গাজায় আক্রমণ শুরুর পর হুথিরা পর্যায়ক্রমে লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে চলাচল করা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর হামলা চালাতে শুরু করে, দাবি করে যে তারা ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করছে।
হুথিদের হামলার কারণে সুয়েজ খাল হয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। যেখানে বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় ১২ শতাংশ সুয়েজ খালের উপর দিয়ে বহন করে হয়ে থাকে। এ কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানকে দক্ষিণ আফ্রিকা দিয়ে ঘুরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে মালামাল বহন করতে হচ্ছে। এতে যেমন সময় বেশি লাগছে তেমনি খরচ ও বেশি হচ্ছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুথিদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘ হুথিদের সামনে দুটি পথ খোলা—আমাদের জাহাজে হামলা বন্ধ করো, তাহলে আমরাও হামলা বন্ধ করব। না হলে আমরা কেবল শুরু করেছি, এবং আসল আঘাত এখনও বাকি।’
তিনি আরও বলেন, ‘১৫ মার্চ থেকে হুথিদের ওপর টানা হামলা চলছে, এবং প্রতিদিনই আরও শক্তিশালী আঘাত হানা হচ্ছে।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম