প্রকাশ: শনিবার, ১ মার্চ, ২০২৫, ৩:১৬ পিএম

মীরসরাই উপজেলার ১২ নং খৈয়াছড়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব খৈয়াছড়া গ্রামের কাঠাল বাগান এলাকায় (১লা মার্চ) শনিবার পাহাড়ি জঙ্গল থেকে ৭৫ বছর বয়সী সবুরা খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করেছে মীরসরাই থানা পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার বিকাল ৪টার পর থেকে সবুরা খাতুনের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। এ নিয়ে এলাকাবাসী সারারাত খোঁজাখুঁজি করলেও তার কোনো সন্ধান মিলছিল না। সকালে পাহাড়ি জঙ্গলের মধ্যে পাতা দিয়ে ঢাকা এক লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীরা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ এসে মৃতদেহটি উদ্ধার করে।
নিহত সবুরা খাতুন রফিকের স্ত্রী ছিলেন। তার ছেলে মো. ওবায়দুল হক জানান, তার মা বেশ কয়েক বছর ধরে পূর্ব খৈয়াছড়া এলাকায় তার ছোট বোন নাছিমা আক্তারের বাড়িতে থাকতেন। নাছিমার স্বামী মোবারক হোসেন মাদকাসক্ত ছিলেন এবং তার জন্য একাধিকবার গ্রামের লোকজন তাকে বিতাড়িত করেছিল। তবে দুই মাস আগে তার ছেলেদের অনুরোধে মোবারক আবার সেই এলাকায় ফিরেন তিনি পরে তিনি আবার মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন।
এই পরিস্থিতির কারণে তার মায়ের সাথে মোবারকের প্রায় ঝগড়া হতো। তার অভিযোগ শুক্রবার বিকালে মোবারক তার মাকে গলায় দড়ি পেঁচিয়ে হত্যা করেছে এবং পরে লাশটি পাশের ঝোপে ফেলে যায়। হত্যার পর মোবারক সবুরার কানে ও গলায় থাকা সোনার গহনা নিয়ে যায়। রাত ১০টার দিকে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে প্রতিবেশীদের ফোনে হত্যার বিষয়টি জানানো হয় এবং আরও লোকজনকে হত্যা করার হুমকি দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী নূরের জামান জানান, শুক্রবার রাতে তারা সবুরা খাতুনের খোঁজে বের হন কিন্তু সকালে তার লাশ জঙ্গলে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
মীরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, সবুরা খাতুনকে গলায় দড়ি পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে। এই ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং হত্যাকারীকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ মাঠে কাজ করছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমআর