প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ১২:২৩ পিএম

বরগুনার তালতলীতে কমডেকা টাওয়ার থেকে নিউ পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার পর্যন্ত সড়ক নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশলীর প্রতিনিধি উপস্থিতি সত্ত্বেও ঠিকাদার আরসিসি ঢালাইয়ের কাজে নির্ধারিত অনুপাত না মেনে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করেছে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হলে, উপজেলা প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কাজ বন্ধ করে দেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঠিকাদার নিম্নমানের কাদা-বালিমিক্স পাথর ব্যবহার করে সড়কের ঢালাই কাজ করছিল যা সরকারি নিয়ম-নীতি এবং নির্ধারিত শিডিউলের বিরোধী। আরসিসি ঢালাইয়ের জন্য নির্ধারিত উপকরণে প্রতি মিশ্রণে এক বস্তা সিমেন্ট, দেড় বস্তা মোটা বালি, তিন বস্তা বড় পাথর এবং ছোট পাথর ব্যবহার করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও, সেগুলোর কোনটিই সঠিকভাবে মেনে চলা হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, সড়কের নির্মাণকাজের শুরু থেকেই নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠছিল। এর মধ্যে গত সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৫টায় নিউ পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার এলাকায় আরসিসি ঢালাইয়ের কাজে ব্যাপক অনিয়ম দেখতে পেয়ে এলাকাবাসী উপজেলা প্রকৌশলীকে বিষয়টি জানান। অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং নিম্নমানের কাদা-বালিমিক্স পাথর সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক শহিদুল হক বলেন, "স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে এর সত্যতা পাই। এরপর উপজেলা প্রকৌশলীকে জানালে তিনি নিজে এসে কাজ বন্ধ করেন এবং নিম্নমানের উপকরণ সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন।"
এদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মের্সাস জেমি এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি কালাম এই অভিযোগে বলেন, "কাজ সব ঠিকমতোই হচ্ছে, তবে এই পাথরটা একটু খারাপ ছিল। আপনি চাইলে সারা দিন দাঁড়িয়ে দেখেন, কাজ কোনো সমস্যা হবে না।"
তবে উপজেলা প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, "ঠিকাদার বালিমিক্স পাথর দিয়ে ডালাই শুরু করেছে, আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে সত্যতা পেয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। পাথরগুলো সরিয়ে নিতে ঠিকাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।"
সড়ক নির্মাণের জন্য বরাদ্দ প্রায় ৫৩ লাখ টাকা হলেও, এই ধরনের অনিয়ম ভবিষ্যতে সড়কের স্থায়িত্ব এবং নিরাপত্তার ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে, যা এলাকাবাসী এবং সরকারের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমআর