প্রকাশ: শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৪:১৫ পিএম

এবারের অমর একুশে বইমেলায় এসেছে কাজী সীমান্ত শুভ’র ‘বহমান বৃত্তে’ শিরোনামে উপন্যাস। প্রকাশনী প্রতিষ্ঠান বাংলানামা স্টল থেকে লেখকের ‘বহমান বৃত্তে’ উপন্যাসটির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অমর একুশে গ্রন্থমেলায় লেখকের এই বইটি পাওয়া যাবে বাংলানামা প্রকাশনীর ৫৬০ নং স্টলে।
‘বৃহমান বৃত্তে’ এই উপন্যাসের মূল বিষয় নিম্নে তুলে ধরা হলো-
নিশি খুব একাকী বোধ করছে, সে চাইছে আবুও তার সাথে যাক। তবে নিশি মুখে কিছু বলছে না। মানুষ যে শুধু মুখে কথা বলে তা না, মানুষের চোখও অনেক কথা বলে। তবে সবাই চোখের সে ভাষা বুঝতে পারে না।
আবুও একবার ভাবলো নিশির সাথে যাওয়া দরকার।
এমন সময় হাসপাতালের করিডোরে সে নীলকে দেখতে পারলো। সে পেছনে হাত রেখে হাঁটাহাঁটি করছে। নীল তাকে শিখিয়েছে কখনো কারও মায়ায় জড়ানো যাবে না।
আবু নিশির সাথে যাবে না। এ পৃথিবীর সবচে খারাপ জিনিস হলো মায়া। এ মায়ায় একবার পড়লে তার হাত হতে নিস্তার পাওয়া যায় না। মায়া ক্রমেই বৃদ্ধি পায়। আবুও এ কঠিন সত্য জানে। সে কারও মায়ায় জড়াতে চায় না। নিশিদের গাড়ি ছেড়ে দিয়েছে। মেয়েটার জন্যে আবুর বেশ মায়া হচ্ছে, কি ভয়ানক ব্যাপার, আবার সেই মায়া নামক আপদ তার মনে ঢোকার চেষ্টা করছে। আবু হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে হাঁটছে... গন্তব্য বিহীন হাঁটা, নীলও তার সাথে আছে। এ থেকে ধরে নেয়া যায় আবুর মন খারাপ। কেননা নীল তার মন খারাপের সঙ্গী।
আবুর মন খুব বেশি বিষন্ন হলেই সে নীলের দেখা পায়। এই যোগাযোগটা টেলিপ্যাথির মাধ্যমে হবে হয়তো।
এ পৃথিবীর কারও কাছেই তার কিছু চাওয়ার নেই। এ পৃথিবীর প্রতি তার রাজ্যের অনীহা। মানুষ, সে অতি ভয়ানক এক জীব। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হতে চলল, আবুর বিরামহীন ভাবে হাঁটছে, তার পাশে রয়েছে নীল। তার গতি একই রয়েছে, না কম না বেশি। বহমান বৃত্ত ভেদ করলেই কেবল জীবনের আসল রসন্য উন্মোচিত হবে। সেই বৃত্ত ভেদ করা দুরূহ বটে, তবে অসম্ভব নিশ্চয় নয়। চারপাশ আশ্চর্য রকমের নীরব ছায়া ঘেরা। আবু কোথায় যাচ্ছে, কোথায় যেয়ে সে থামবে, তা কি সে নিজেও জানে!
লেখক : কাজী সীমান্ত শুভ
স্বদেশ প্রতিদিন/এমআর