
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২০২৫ স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা পরিণত হয়েছে এক বিশাল ভর্তি যুদ্ধ। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকরা স্বপ্ন নিয়ে আসছেন। তাদের যাত্রা ও পরীক্ষার প্রস্তুতির মাঝে বিশ্রামের জন্য একটি নান্দনিক স্থান তৈরি করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটার’।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে সাজানো বিশ্রামাগারটি যেন এক সাংস্কৃতিক রূপ ধারণ করেছে। মাটিতে বিছানো নীল কার্পেট, চারিদিকে সামিয়ানা, এবং উপরে ঝুলতে থাকা ঐতিহ্যবাহী নকশা, থিয়েটারের এই আয়োজনকে দৃষ্টিনন্দন করে তুলেছে। বিশেষভাবে সাজানো এই বিশ্রামাগারটির পাশেই রয়েছে একটি হেল্পডেস্ক যা শুধু দিকনির্দেশনা প্রদানই নয়, এক ধরনের সংস্কৃতিচর্চার কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করছে। এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা এবং তাদের অভিভাবকরা।
জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটার দীর্ঘ ৪৩ বছর ধরে সুনামের সঙ্গে নাট্যচর্চা করে আসছে। এবার তারা তাদের বিশ্রামাগারটি সাজিয়েছে বাংলার গ্রামবাংলার ঐতিহ্যপূর্ণ উপকরণ দিয়ে। বিশেষভাবে, একটি ‘ঘুরি’ রাখা হয়েছে, যা একসময় গ্রামাঞ্চলে বিনোদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ছিল। বিশ্রামাগারের ছাউনিতে ব্যবহার করা হয়েছে কাঠ ও বাঁশের তৈরি আচ্ছাদন, যা ভ্রমণ ক্লান্ত অভিভাবকদের জন্য আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করেছে।
বিশ্রামাগারটির হেল্পডেস্কটি শুধু সেবা প্রদানেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি বর্তমানে একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে। ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকরা নিজেদের যাত্রা ও ক্লান্তি ভুলে গিয়ে এখানে বিশ্রাম নিয়ে নিজেদের পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন।
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম থেকে আসা আবুল কালাম আযাদ, যিনি তার মেয়েকে নিয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে এসে বলেন, "আমরা অনেক দূর থেকে এসেছি। এখানে আমাদের বসার সুব্যবস্থা করা হয়েছে যা সত্যিই প্রশংসনীয়। জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটারের এই উদ্যোগের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।" খুলনা থেকে আসা আরেক অভিভাবকও একই রকম অনুভূতি প্রকাশ করেছেন এবং বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস বড় হওয়ায় নতুন জায়গা চিনতে সমস্যা হচ্ছিল, কিন্তু এখানে এসে আমি স্বস্তি পেয়েছি, কারণ এখানে শুধু বিশ্রামের সুযোগই নয়, দিকনির্দেশনাও পাওয়া যাচ্ছে।"
ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী মারিয়া তাবাচ্ছুম বলেন, "এটা আমার প্রথমবার জাহাঙ্গীরনগরে আসা। এত বড় ক্যাম্পাস কোথায় কীভাবে যেতে হবে বুঝতে পারছিলাম না। হেল্পডেস্কের স্বেচ্ছাসেবকরা আমার অনেক সাহায্য করেছেন। এটি সত্যিই প্রশংসনীয়।"
জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক সাইয়েদ মেহের আফরোজ শাওলিন বলেন, "গত ৪৩ বছর ধরে আমরা নাট্যচর্চায় কাজ করছি। বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ধারণ করে এগিয়ে চলেছি। এবার আমরা ভর্তি পরীক্ষার সময়ে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। অভিভাবকদের জন্য একটি বিশ্রামাগারের ব্যবস্থা করেছি, যেখানে তারা স্বস্তিতে বিশ্রাম নিতে পারেন।"
থিয়েটার সংগঠনটি তাদের স্টলকে বাংলার ঐতিহ্য অনুসরণ করে সাজিয়েছে। ছাউনিতে ঝুলছে রঙিন ঘুড়ি যা বাংলার ঐতিহ্যের প্রতীক। সংগঠনটি এ ছাড়া ক্যালেন্ডার ও সুভেনির তৈরি করেছে, যা তাদের নাট্যচর্চার জন্য ফান্ড সংগ্রহে সহায়তা করবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার সময়ে জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটারের এই উদ্যোগ কেবল একটি বিশ্রামস্থান তৈরি করেনি বরং এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা এবং অতিথিপরায়ণতা প্রদর্শন করেছে। এটি ভর্তি পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দুশ্চিন্তা দূর করার পাশাপাশি, বাংলার ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরেছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমআর